শমীক ভট্টাচার্যের উপর হামলার অভিযোগ, অভিষেকের নামে নয়া মামলা! সরকারি জমির মাটি কাটার অভিযোগেও তদন্তের নির্দেশ
শমীক ভট্টাচার্যের উপর ২০২০ সালের হামলার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে মামলা। সরকারি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগেও ৩০ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ আদালতের।
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ফের একাধিক অভিযোগ সামনে এল। ২০২০ সালে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের উপর হামলার অভিযোগে তাঁর নাম উল্লেখ করে ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে সরকারি জমি থেকে বেআইনি ভাবে মাটি ও গাছ কাটার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাতেও অভিষেক-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কৃষ্ণনগরের আদালত।
শমীক ভট্টাচার্যের উপর হামলার অভিযোগ
অভিযোগকারী অভিজিৎ দাস ওরফে ববি ডায়মন্ড হারবার থানার আইসিকে ১০ পাতার একটি চিঠি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য এবং তাঁর সহযোগীদের উপর হামলা হয়েছিল। পরিকল্পনা করেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারীর।
ববির অভিযোগ, ওই হামলার নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছিল। অভিযোগপত্রে অভিষেক ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী নিজে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না বলেও জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার খবর পেয়ে পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন।
অভিযোগপত্রের প্রতিলিপি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
সরকারি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ
অন্যদিকে, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে সরকারি ও ভেস্টেড জমি থেকে বেআইনি ভাবে মাটি কেটে বিক্রি এবং গাছ কাটার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাতেও আদালতের নির্দেশ সামনে এসেছে।
মামলাকারী বাপন ঘোষের অভিযোগ, কালীগঞ্জ ব্লক এবং মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর এলাকায় বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি জমিতে থাকা গাছ কাটার অভিযোগও রয়েছে।
এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ, প্রাক্তন বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ-সহ মোট ৩০ জনের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মামলাকারীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানানো হলেও যথাযথ পদক্ষেপ হয়নি। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। সমস্ত অভিযোগ ও নথি পর্যালোচনার পর কৃষ্ণনগরের আদালত পুলিশকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
শুরু রাজনৈতিক তরজা
আদালতের তদন্তের নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আলিফা আহমেদ অভিযোগগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে মামলাকারীর বক্তব্য, সরকারি জমি রক্ষা এবং বেআইনি মাটি কাটার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সরব।
তবে দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রেই তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। আদালতের নির্দেশের পর এখন পুলিশের তদন্ত কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0