ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র বচসা এবং হাতাহাতি! ১৮০ যাত্রী নিয়ে সৌদিতে জরুরি অবতরণ Flydubai বিমানের
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী Flydubai বিমানে মাঝআকাশে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়। 7700 ও 7500 কোড পাঠানোর পর বিমানটি সৌদির তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। পাইলটদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর সামনে এলেও ঘটনার পূর্ণ কারণ এখনও তদন্তাধীন।
মাঝআকাশে আচমকা বিপদসংকেত, দ্রুত উচ্চতা কমানো এবং হাইজ্যাকের ইঙ্গিতবাহী কোড—দুবাই থেকে তেল আভিভগামী Flydubai-এর একটি বিমানে বুধবার তৈরি হয় তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ। FZ1073 নম্বরের Boeing 737 MAX 8 বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে একাধিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রথমে ‘7700’ স্কোয়াক কোড পাঠায়। এই কোড সাধারণত কোনও গুরুতর জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এরপর কিছু সময়ের জন্য ‘7500’ কোড পাঠানো হয়, যা বিমান ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত। এর জেরে ইজরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তৎপরতা তৈরি হয় এবং বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে বিমান হাইজ্যাকের আশঙ্কা তৈরি হলেও পরবর্তী রিপোর্টে অন্য একটি ঘটনা সামনে আসে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র বচসা এবং হাতাহাতি হয়। একজন পাইলট আহত হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সংঘর্ষের সঠিক কারণ এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও তদন্তের বিষয়।
ঘটনার সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায়। বিভিন্ন ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য ও সংবাদ প্রতিবেদনে কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার ফুট নেমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় এবং বিমানটি নিরাপদে অবতরণের জন্য সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য হাইজ্যাকের আশঙ্কায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও নিরাপত্তা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে। তবে পরে একাধিক সূত্রে জানানো হয়, ঘটনাটিকে সরাসরি হাইজ্যাক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
এদিকে, কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে ককপিটে এক পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল এবং যাত্রী ও ক্রুদের কয়েকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেন। আবার ইজরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য বা হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত তদন্ত-ফল প্রকাশিত হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে এবং কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে আক্রান্ত পাইলটের জাতীয়তা ও তাঁকে ‘হিরো’ হিসেবে তুলে ধরার দাবি ছড়িয়েছে। কিন্তু এই তথ্যের সবটাই এখনও নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রে নিশ্চিত হয়নি। তাই ঘটনাটিকে ৯/১১-র ধাঁচের হামলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করার আগে তদন্তের ফলের অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে এবং যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ, ককপিটে সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং জরুরি কোড পাঠানোর পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0