সন্ধ্যা ৭টা ৪৫-এ শেষ কথা! ‘বৃষ্টির কথা বলেছিল রুপালি’, NRS নার্সের মৃত্যুতে মুখ খুললেন স্বামী

NRS হাসপাতালে নার্স রুপালি বর্মনের রহস্যমৃত্যুতে মুখ খুললেন স্বামী রাহুল দাস। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শেষ ফোনে কী কথা হয়েছিল, সামনে এল নতুন তথ্য।

Aug 13, 2026 - 19:33
 0  90
সন্ধ্যা ৭টা ৪৫-এ শেষ কথা! ‘বৃষ্টির কথা বলেছিল রুপালি’, NRS নার্সের মৃত্যুতে মুখ খুললেন স্বামী

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স রুপালি বর্মনের (৩০) রহস্যমৃত্যু ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। বুধবার রাতে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের HDU-র শৌচাগার থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল রুপালিকে। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পর প্রথম বার মুখ খুলেছেন রুপালির স্বামী রাহুল দাস। তাঁর দাবি, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ স্ত্রীর সঙ্গে শেষ বার ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। সেই সময় রুপালির কথাবার্তায় অস্বাভাবিক কিছু বুঝতে পারেননি তিনি।

কী বলেছিলেন রুপালি?

রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, ফোনে খুব অল্প সময় কথা হয়েছিল তাঁদের। সেই সময় রুপালি মেট্রোয় ছিলেন। পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন তিনি। বৃষ্টি পড়ছিল বলেও স্বামীকে জানিয়েছিলেন রুপালি।

এর পর হাসপাতালে যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে পরিবার। এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাহুল।

হাসপাতালের ময়নাতদন্তে আপত্তি ছিল স্বামীর

রাহুলের দাবি, হাসপাতালেই ময়নাতদন্ত করাতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই হাসপাতালেই ময়নাতদন্ত হলে কিছু প্রশ্ন থেকে যেতে পারে। তাঁর অনুরোধের পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়।

এখন সেই রিপোর্টের অপেক্ষায় পরিবার এবং তদন্তকারীরা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাত ১০টা ২০ মিনিটে শৌচাগারে যান রুপালি

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে স্ত্রীরোগ বিভাগের HDU-তে ডিউটিতে ছিলেন রুপালি। রাত ৮টার শিফটে কাজে যোগ দেওয়ার পর রোগীদের পরিষেবাও দেন তিনি।

এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি শৌচাগারে যান। বেশ কিছুক্ষণ পরেও ফিরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত শৌচাগারের দরজা ভাঙা হয়।

ভিতর থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রুপালিকে। তাঁর পাশে মোবাইল ফোনও ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।

ফেন্টানিলের ভায়াল ঘিরে তদন্ত

ঘটনার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, রুপালির কাছে ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল ছিল। ফেন্টানিল একটি শক্তিশালী ওপিওইড ওষুধ, যা চিকিৎসাক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ ও অ্যানাস্থেশিয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।

অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগের সম্ভাবনাও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে রুপালির মৃত্যু হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণ?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। ফলে রুপালির মৃত্যু আত্মহত্যা কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছেন না।

রুপালির ফোন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, ডিউটির সময় তাঁর গতিবিধি এবং সহকর্মীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর পারিবারিক পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর আগে কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ফলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পাশাপাশি দুই তদন্তের ফলাফলের দিকেও নজর রয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0