নিরাপত্তার স্বার্থে রাতারাতি ফ্লাইওভারে বসল বিশেষ ব্লক! আসানসোলেও বন্ধ সৌন্দর্যায়ন
বৃষ্টিতে চিংড়িহাটা উড়ালপুলে বাইক পিছলে পড়ার ঘটনার পর রাস্তার রং সরানোর কাজ শুরু। নিরাপত্তার স্বার্থে আসানসোলেও রং মোছার সিদ্ধান্ত।
উৎসবের আগে শহর সাজাতে রাস্তার গায়ে রঙের প্রলেপ। কিন্তু সেই রংই বৃষ্টির দিনে বিপদের কারণ হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। চিংড়িহাটা উড়ালপুলে বৃষ্টির জেরে একের পর এক বাইক পিছলে পড়ার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তৎপর প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চিংড়িহাটা উড়ালপুল থেকে রং সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে বিশেষ ব্লক।
চিংড়িহাটার ঘটনার পর একই ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে আসানসোলেও। পুজোর আগে শহরের শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের রাস্তায় সৌন্দর্যায়নের জন্য রং করা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বুধবার রাতে সেই রং মোছার কাজ চালায় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের বক্তব্য, রাস্তার সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি যানবাহনের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জানা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে রাস্তার সৌন্দর্য বজায় রেখেই বৃষ্টির সময় পিচ্ছিল হওয়ার ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ নেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পিচ্ছিল-রোধী উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
চিংড়িহাটা উড়ালপুলে বাইক পিছলে পড়ার ঘটনার পর রাস্তায় ব্যবহৃত রঙের গুণমান ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘অ্যান্টি-স্কিড’ রং ব্যবহার করা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বৃষ্টির জলে রঙিন রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ছিল। পাশাপাশি, রোদের আলোয় রঙের প্রতিফলনে চালকদের চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
বুধবার দুপুরে বৃষ্টির পর চিংড়িহাটা উড়ালপুলে একাধিক বাইক পিছলে পড়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিরোধী দলগুলির তরফেও প্রশ্ন তোলা হয়। গড়িয়াহাট ও চিংড়িহাটা উড়ালপুলে রং করার ফলে বাইক চালকদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধী নেতারা।
ঘটনার খবর পৌঁছয় নবান্নে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রঙের কারণে চালকদের চোখে সমস্যা হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের সুবিধা ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এরপর রাতেই কেএমডিএ ও কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা চিংড়িহাটা উড়ালপুলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। রাস্তা যাতে পিচ্ছিল না থাকে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু হয়।
উৎসবের আগে শহরকে নতুন রূপ দেওয়ার উদ্যোগের মধ্যেই এখন বড় প্রশ্ন—সৌন্দর্যায়নের কাজে ব্যবহৃত রং কি সব আবহাওয়ায় নিরাপদ? তদন্তের রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের দিকেই নজর রয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0