‘এই সব আসলে নাটক!’ মাসুদ আজহারের পুরস্কার ঘোষণা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে নিশানা ভারতের

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে পাকিস্তানকে ফের নিশানা করল ভারত। জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির অভিযোগ, এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় মদতের অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা করছে। পহেলগাঁও ও ২৬/১১ হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়।

Oct 8, 2026 - 12:46
 0  3
‘এই সব আসলে নাটক!’ মাসুদ আজহারের পুরস্কার ঘোষণা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে নিশানা ভারতের

রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারত। সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূল নিয়ে আলোচনার সময় ‘রাইট অফ রিপ্লাই’ প্রয়োগ করে নয়াদিল্লি অভিযোগ করেছে, জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণার মতো পদক্ষেপ দিয়ে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নিজেদের অবস্থানকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরি বলেন, শুধু ঘোষণা বা বিবৃতি দিয়ে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নেতা, পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং তাদের আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই প্রয়োজন।

রাষ্ট্রসংঘের ওই আলোচনায় পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলে ভারত। রঘু পুরির অভিযোগ, পাকিস্তান একদিকে নিজেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা দেশ এবং অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদের শিকার হিসেবে তুলে ধরে। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, অতীতে পাকিস্তানের মাটিতে তৈরি বা আশ্রয় পাওয়া সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক পরবর্তীতে প্রতিবেশী দেশগুলির পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও হিংসার কারণ হয়ে উঠেছে।

মাসুদ আজহারের প্রসঙ্গেও সরাসরি প্রশ্ন তোলে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তান আজহারের অবস্থান সম্পর্কে যে দাবি করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভারতের তরফে রাষ্ট্রসংঘে বলা হয়, আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন সময়ে আজহারের বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পাকিস্তানের বক্তব্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি।

এর আগে রাষ্ট্রসংঘের একই ষষ্ঠ কমিটিতে ভারতের জাতীয় বক্তব্যও দেন বিজেপি সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। পাকিস্তান থেকে আসা সীমান্ত-পারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংগঠক, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

ওআইসি-র বক্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেন বিপ্লব দেব। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে ওআইসি-র মন্তব্যের পর তাঁর বক্তব্য ছিল, ভুক্তভোগী এবং অপরাধীকে একই জায়গায় দাঁড় করানো উচিত নয়। ভারতের দাবি, পাকিস্তান থেকে আসা সীমান্ত-পারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার নয়াদিল্লির রয়েছে।

পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গও রাষ্ট্রসংঘে তুলে ধরে ভারত। ২০২৫ সালের ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বিপ্লব দেব আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা Comprehensive Convention on International Terrorism বা CCIT দ্রুত গ্রহণের পক্ষে সওয়াল করেন।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ বিতর্ক ফের তীব্র হয়েছে। মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানের পদক্ষেপকে ভারত যথেষ্ট মনে করছে না; বরং সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপের উপরই জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0