দামি ফোন-কেনার জন্য এক মাসের শিশুকে ১.২০ লক্ষে বিক্রির অভিযোগ, চার দফায় হাতবদল

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক মাসের শিশুকে ১.২০ লক্ষ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। পুলিশের তদন্তে শিশুটির একাধিকবার হাতবদলের তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

Sep 30, 2026 - 18:55
 0  13
দামি ফোন-কেনার জন্য এক মাসের শিশুকে ১.২০ লক্ষে বিক্রির অভিযোগ, চার দফায় হাতবদল

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক মাসের শিশুকে বিক্রির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, শিশুটির প্রথম লেনদেন হয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায়। এরপর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে একাধিক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার সন্ধান মেলে হায়দরাবাদে। ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা-সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, শিশুটির বাবা-মা ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা এবং শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অভিযোগ, শিশুটিকে বিক্রি করে পাওয়া ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা থেকে তাঁরা দুটি মোবাইল ফোন এবং সোনার গয়না কেনেন। তদন্তে সেই সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে সীমা রেশওয়ালের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে সঙ্গীতা আভহাড়ের কাছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সঙ্গীতা শিশুটিকে নান্দেড়ে নিয়ে যান। সেখান থেকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার লেনদেনে সুরেশ গুন্টুকার কাছে শিশুটির হাতবদল হয়।

এরপর শিশুটিকে হায়দরাবাদের উমা খটকমের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে জানা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, আগের লেনদেনের মতোই এই পর্যায়েও প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অর্থের লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। অর্থাৎ, শুরুতে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় যে শিশুটিকে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তী পর্যায়ে তার দাম বেড়ে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছয়।

মামলাটি সামনে আসে শিশুটির মায়ের অভিযোগের পর। পুলিশ তদন্ত শুরু করে একে একে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে। তদন্তের সূত্র ধরে হায়দরাবাদে শিশুটির অবস্থানও চিহ্নিত করা হয়। পরে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে মহারাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়।

শিশুটিকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সামনে হাজির করা হয়। কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী আপাতত তার সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য একটি অনুমোদিত শিশু-সেবা প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

পুলিশ এখন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই লেনদেনের সম্পূর্ণ শৃঙ্খল এবং আরও কেউ এই ঘটনায় যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ঘটনাটির সঙ্গে আন্তঃরাজ্য শিশুপাচার চক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0