সীমান্ত সন্ত্রাস ভারতের বড় উদ্বেগ, গুরুত্ব না দিলে সম্পর্কে প্রভাব! আমেরিকাকে কড়া বার্তা ভারতের

ভারতের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। এই বিষয়টি সহযোগী দেশগুলি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একইসঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির জটিলতা ও দুই দেশের মধ্যে চলা আলোচনার বিষয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি।

Sep 29, 2026 - 16:51
 0  3
সীমান্ত সন্ত্রাস ভারতের বড় উদ্বেগ, গুরুত্ব না দিলে সম্পর্কে প্রভাব! আমেরিকাকে কড়া বার্তা ভারতের

ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তপারের সন্ত্রাস ভারতের জন্য দীর্ঘদিনের বড় উদ্বেগ। কোনও সহযোগী দেশ যদি এই সমস্যার গুরুত্ব এবং ভারতের অবস্থান যথাযথভাবে উপলব্ধি না করে, তার প্রভাব দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও পড়তে পারে।

নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক আলোচনায় ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থানের প্রেক্ষাপটেই তাঁর বক্তব্য সামনে এসেছে।

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট

জয়শঙ্করের বক্তব্যে উঠে আসে, ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অগ্রাধিকারের তালিকায় সন্ত্রাসবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, প্রতিবেশী ভূখণ্ড থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা ভারতের অবস্থানকে অন্য অনেক দেশের তুলনায় আলাদা করে।

বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা হল, ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগকে যে দেশগুলি সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের সেই বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে হবে। অন্যথায় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মতপার্থক্য বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্কের আবহে মন্তব্য

ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের যোগাযোগ বৃদ্ধির সময়েই জয়শঙ্করের এই মন্তব্য তাৎপর্য পেয়েছে। ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক বর্তমানে শুধু নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতার মতো একাধিক ক্ষেত্রও এর সঙ্গে যুক্ত।

Asia Society Policy Institute-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য—দুই ক্ষেত্রেই একাধিক জটিলতার কথা উঠে এসেছে।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও জটিলতা

আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গেও জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বিষয়টি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি জটিল। দুই দেশের অর্থনীতি, উৎপাদন কাঠামো এবং মাথাপিছু আয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র কৃষক, ছোট উৎপাদক এবং MSME ক্ষেত্রের স্বার্থও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ফলে চুক্তির প্রতিটি শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য।

চুক্তির ক্ষেত্রে আমেরিকার Section 301 প্রক্রিয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও শুল্কসংক্রান্ত প্রশ্ন এখনও আলোচনার মধ্যে রয়েছে।

ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে বাণিজ্যের ভূমিকা

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হলে সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। তবে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং বাণিজ্য—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতের নিজস্ব স্বার্থ ও অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

এর আগে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনায় শুল্ক, কৃষি, উৎপাদন এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। Asia Society-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কৃষি ও উৎপাদন সংক্রান্ত বাজার-সুরক্ষা নিয়ে ভারতের অবস্থান আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সব মিলিয়ে, নিউ ইয়র্কের আলোচনায় জয়শঙ্করের বক্তব্যে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দুই গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে—একদিকে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগ, অন্যদিকে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলা দীর্ঘ আলোচনা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার অবস্থানই তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0