ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ, ED-র দাবিতে নতুন তথ্য
দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের তদন্তে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’ থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তরের কথা জানিয়েছে ED। ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, সেটি রয়্যালটি বাবদ দেওয়া হয়েছিল।
দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে কথিত আর্থিক অনিয়মের তদন্তে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল।
ED-র বৃহস্পতিবারের বিবৃতি অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে তাঁর মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে নগদে ৩.৮ কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
তবে এই অর্থের উদ্দেশ্য নিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্যও ED-র বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাকে তিনি জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো ওই অর্থ ‘রয়্যালটি’ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। ED-র প্রকাশিত বিবৃতিতে ওই রয়্যালটি ঠিক কোন কাজ বা সৃষ্টির জন্য দেওয়া হয়েছিল, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রকাশিত ED-র বিবৃতিতে এই ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেনকে নিজে থেকে অপরাধমূলক লেনদেন বলে উল্লেখ করা হয়নি। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবেও ED-র ওই বিবৃতিতে চিহ্নিত করা হয়নি।
পুরো বিষয়টি সামনে এসেছে ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুচন্দা সেন এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে চলা তদন্তের সূত্রে। ED-র দাবি, ‘মাসআর্ট’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে কলকাতার একাধিক দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেখানে UNESCO-র নাম ও লোগো ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ED আরও জানিয়েছে, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর দফতর থেকে ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একাধিক টেন্ডার এমন কয়েকটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল, যাদের মালিকদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। ওই সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেন এবং পরবর্তী অর্থপ্রবাহও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে ED জানিয়েছে।
এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ওই অর্থ গান, লেখা ও সুরের রয়্যালটি হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, মমতা দীর্ঘদিন ধরেই বই, গান ও সঙ্গীতসৃষ্টির জন্য রয়্যালটি পেয়ে থাকেন এবং এই ধরনের অর্থব্যবস্থা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমেই হয়েছে।
ইন্দ্রনীল সেনকে এই মামলায় ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ED। ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর সঙ্গে যুক্ত একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে কলকাতার ED দফতরে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তাঁকে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের তলব করা হয়েছে।
ফলে ৩০ লক্ষ টাকার এই লেনদেনের প্রকৃতি, ‘রয়্যালটি’ হিসেবে তার ভিত্তি এবং দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো সংক্রান্ত বৃহত্তর আর্থিক তদন্তে এর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা ED-র চলতি তদন্তেই আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0