নেতাজি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের, অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রত্যাহার করল রাজ্য
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রত্যাহার করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্ন থেকে জারি বিজ্ঞপ্তি।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তাঁর পাওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ফলে এখন থেকে অনন্ত মহারাজ নিজেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রাপক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। পাশাপাশি সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট তালিকা থেকেও তাঁর নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মমতা সরকারের দেওয়া সম্মান, প্রত্যাহার শুভেন্দু সরকারের
চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্ত মহারাজকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য ও বাংলার মানুষের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় সরকারের নজরে এসেছে, যা ‘বঙ্গবিভূষণ’-এর মতো সম্মানের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করেছে বর্তমান সরকার। সেই কারণেই সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের পর এই সম্মানের সঙ্গে যুক্ত কোনও সুযোগ-সুবিধাও আর পাবেন না অনন্ত মহারাজ।
নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক
সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের কয়েকটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁর দাবি ছিল, ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে নেতাজির কোনও ভূমিকা ছিল না। পাশাপাশি আজাদ হিন্দ ফৌজকে নেতাজি ব্যবহার করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর পরেই বিরোধী দলগুলি এবং বিভিন্ন মহল থেকে অনন্তের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। নেতাজিকে নিয়ে এই ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছিল রাজ্য সরকারও।
‘আইন সকলের জন্য সমান’, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর প্রচার বরদাস্ত করা হবে না। সমাজমাধ্যমে নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট বা প্রচারের ক্ষেত্রে সাইবার সেলকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হলেও আইনের ক্ষেত্রে কোনও আলাদা সুবিধা দেওয়া হবে না। তাঁর সেই বক্তব্যের পরের দিনই অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সামনে এল।
এদিকে, নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগে উত্তর দিনাজপুরে এক যুবককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।
‘নেতাজির অপমান বাঙালির অপমান’
অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, নেতাজিকে অপমান করে বাংলার মানুষের সমর্থন পাওয়া সম্ভব নয়। নেতাজির সম্মানহানিকে বাঙালির অপমান হিসেবেই দেখছেন তিনি।
ফলে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার নতুন মাত্রা পেল। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0