জারি কারফিউ, বন্ধ ইন্টারনেট! ‘স্বাধীন বালোচিস্তান’ ঘিরে উত্তেজনা, ১১ আগস্টের কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানের

১১ আগস্টকে ‘বালোচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালনের ডাক ঘিরে পাকিস্তানে উত্তেজনা। বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ, ১৪৪ ধারা ও ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ।

Aug 10, 2026 - 13:30
 0  6
জারি কারফিউ, বন্ধ ইন্টারনেট! ‘স্বাধীন বালোচিস্তান’ ঘিরে উত্তেজনা, ১১ আগস্টের কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানের

বালোচিস্তানকে ঘিরে পাকিস্তানে ফের উত্তেজনা। ১১ আগস্টকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালনের ডাক দিয়েছে বালোচপন্থী সংগঠনগুলি। সেই কর্মসূচি ঠেকাতে বালোচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় ধরপাকড়ের পাশাপাশি ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত বা বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে।

বালোচিস্তানের স্বাধীনতাপন্থী সংগঠনগুলির বক্তব্য, ১১ আগস্ট তারা ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করবে। সাধারণ মানুষকে বাড়ি, দোকান, বাজার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বালোচিস্তানের পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী বালোচদেরও একই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানি প্রশাসন এই ধরনের কর্মসূচিকে অনুমোদন করছে না। বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে খবর। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি রাখার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধ এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্বাধীনতাপন্থীদের পাল্টা বার্তা

বালোচ লিবারেশন আর্মির সঙ্গে যুক্ত নেতা মির ইয়ার বালোচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানি প্রশাসনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিধিনিষেধ জারি করেও ১১ আগস্টের কর্মসূচি থামানো সম্ভব হবে না।

স্বাধীনতাপন্থী শিবিরের দাবি, বালোচিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। তবে তাদের এই দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কেন ১১ আগস্ট?

স্বাধীনতাপন্থী বালোচ সংগঠনগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট বালোচিস্তানের কালাত রাজ্য স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকেই সামনে রেখে দিনটিকে ‘বালোচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে বালোচিস্তানের ইতিহাস এবং ১৯৪৭ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা রয়েছে। ফলে স্বাধীনতাপন্থীদের বর্ণনাকে সরাসরি প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস হিসেবে দেখার পরিবর্তে এটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

দীর্ঘদিনের সংঘাত

বালোচিস্তানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। বালোচ লিবারেশন আর্মি-সহ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। পাল্টা সেনা অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

অঞ্চলটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিখোঁজ হওয়া এবং নিরাপত্তা অভিযানে সাধারণ মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পাকিস্তান অবশ্য নিরাপত্তা অভিযানকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

CPEC-কে ঘিরেও ক্ষোভ

চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা CPEC-কে ঘিরেও বালোচিস্তানে অসন্তোষ রয়েছে। স্বাধীনতাপন্থীদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের সম্পদের যথাযথ সুবিধা স্থানীয় মানুষ পাচ্ছেন না। পাকিস্তান সরকার ও চিনের পক্ষ থেকে অবশ্য CPEC-কে বালোচিস্তানের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়।

১১ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বালোচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। আগামী কয়েক দিনে স্বাধীনতাপন্থীদের কর্মসূচি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0