শ্যামবাজার মেট্রোর নাম বদলে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র স্টেশন, বড় ঘোষণা রেলের

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিনে শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম তাঁর নামে করার প্রস্তাব দিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি তাঁর বাসভবনকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছে।

Aug 4, 2026 - 14:18
Aug 4, 2026 - 14:18
 0  6
শ্যামবাজার মেট্রোর নাম বদলে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র স্টেশন, বড় ঘোষণা রেলের

বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগের বার্তা দিল রাজ্য সরকার। কিংবদন্তি আবৃত্তিকার ও আকাশবাণীর প্রখ্যাত ঘোষক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিনে তাঁর স্মৃতিকে স্থায়ী সম্মান জানানোর প্রস্তাব রাখলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামে করার পাশাপাশি তাঁর ঐতিহাসিক বাসভবনকে 'হেরিটেজ' ঘোষণা করার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মবার্ষিকীতে শ্যামবাজারের রামধন মিত্র লেনের তাঁর বাসভবনে যান অগ্নিমিত্রা। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক এই ব্যক্তিত্বের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি। সেই কারণেই তাঁর বাসভবনকে হেরিটেজ ঘোষণা এবং সংলগ্ন শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শ্যামবাজারের ৩০-বি, রামধন মিত্র লেনের এই বাড়িতেই জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। বর্তমানে বাড়িটির একাংশে পরিবারের সদস্যরা বসবাস করলেও সময়ের ছাপ স্পষ্ট ভবনের গায়ে। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি সংরক্ষণের দাবি উঠলেও তেমন কোনও সরকারি উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতাতেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিনে তাঁর স্মৃতিকে সরকারি মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

কলকাতা মেট্রোয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নামে স্টেশনের নামকরণ নতুন নয়। মহানায়ক উত্তম কুমার, কাজী নজরুল ইসলাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা সুকান্ত ভট্টাচার্যের নামে ইতিমধ্যেই একাধিক স্টেশনের নাম রয়েছে। এবার সেই তালিকায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামও যুক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়াও, রাজ্যের বিভিন্ন মনীষীর বাসভবন সংরক্ষণ ও হেরিটেজ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই সব স্থাপত্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0