কলকাতায় ২০৯, হাওড়ায় ৬৮ ওয়ার্ড! পুরভোটের আগে বিধানসভায় সংশোধনী বিল
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ এবং হাওড়ায় ৫০ থেকে ৬৮ করার প্রস্তাব। পুরভোটের আগে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পেশ সংশোধনী বিল।
পুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি আরও জোরদার হতে পারে। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসকে সামনে রেখে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পৃথক সংশোধনী বিল পেশ করল রাজ্য সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ এবং হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড ৫০ থেকে বেড়ে ৬৮ হতে চলেছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের বক্তব্য, জনসংখ্যার তারতম্য এবং নাগরিক পরিষেবা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ অধিবেশনে নতুন সংশোধনী বিলের পাশাপাশি আগের সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের প্রস্তাবও পেশ করা হয়।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিধানসভায় জানান, জনসংখ্যার ভারসাম্য অনুযায়ী ওয়ার্ডের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, নতুন করে সীমানা নির্ধারণ হলে নাগরিকদের কাছে পুর পরিষেবা আরও সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। হাওড়ার পুর পরিষেবা ও আর্থিক বরাদ্দ নিয়েও তিনি আগের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন।
কলকাতায় ১৪৪ থেকে ২০৯ ওয়ার্ড
কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডকে পুনর্বিন্যাস করে ২০০টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে সীমানা নির্ধারণের সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা সামনে আসে। ওয়ার্ড পিছু প্রায় ১৬ হাজার ভোটার রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একাধিক সমস্যা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ২০৯টি ওয়ার্ডের মানচিত্র তৈরি করে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়লেও কলকাতা পুরসভায় বরোর সংখ্যা ১৬-ই থাকছে। নতুন ওয়ার্ডের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর মহিলা এবং তফসিলি সংরক্ষণের জন্য ওয়ার্ড চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
হাওড়ায় ৫০ থেকে ৬৮ ওয়ার্ড
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া হাওড়া পুরসভাতেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ এগিয়েছে। ৫০টি ওয়ার্ডকে ভেঙে নতুন করে ৬৮টি ওয়ার্ড করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানার মানচিত্র তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিধানসভায় হাওড়া উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক উমেশ রাই পুর পরিষেবার অব্যবস্থা নিয়ে আগের সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন নির্বাচিত পুরপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচিও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, পুরনো ওয়ার্ডগুলির মধ্যে জনসংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যায় বড় ফারাক ছিল। নতুন বিন্যাসে প্রতিটি ওয়ার্ডে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ভোটার সংখ্যা থাকলে নাগরিক পরিষেবা আরও কার্যকর হতে পারে।
পুজোর আগেই প্রক্রিয়া শেষের সম্ভাবনা
নতুন ওয়ার্ডের সীমানা চূড়ান্ত হওয়ার পর সংরক্ষণ নির্ধারণসহ একাধিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত, পুজোর আগেই এই কাজগুলি শেষ করার চেষ্টা চলছে। এরপর পুরভোটের প্রস্তুতি আরও স্পষ্ট রূপ পেতে পারে।
কলকাতা ও হাওড়ার পুর-সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ হলে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পুরনির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা দুই শহরের নাগরিকদের নজর এখন বিধানসভার এই সিদ্ধান্তের দিকে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0