মহালয়ার আকাশে উড়বে ৩ হাজার ড্রোন, ইডেনে হবে মায়ের আগমন! ঘাটে বাজবে মহিষাসুরমর্দিনী
মহালয়া উপলক্ষে কলকাতায় একাধিক বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। ইডেন গার্ডেন্সে ৩,০০০ ড্রোনের বিশেষ প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে ২৬ অক্টোবর অভিনব পদ্ধতিতে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন এবং মহালয়ার ভোরে কলকাতার পাঁচটি গঙ্গার ঘাটে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।
মহালয়াকে কেন্দ্র করে কলকাতায় এবার একাধিক বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ইডেন গার্ডেন্সে হতে চলেছে বড় মাপের অনুষ্ঠান, যার অন্যতম আকর্ষণ হবে প্রায় ৩,০০০ ড্রোনের আকাশ প্রদর্শনী। ড্রোনের আলোর মাধ্যমে দুর্গাপুজো ও দেবী দুর্গার আগমনের বিভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু ড্রোন শো নয়, ইডেনের অনুষ্ঠানে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকছে। ঢাক, শঙ্খধ্বনি, নৃত্য এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহালয়ার দিন থেকেই দুর্গোৎসবের আবহকে বিশেষভাবে তুলে ধরাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
এবারের দুর্গাপুজোয় প্রচলিত সরকারি কার্নিভাল হচ্ছে না। তার পরিবর্তে বিজয়া সম্মিলনীকে অন্যরকমভাবে আয়োজন করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২৬ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জনপ্রিয় খাবার নিয়ে বিশেষ ফুড স্টল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ ক্যাটারিংয়ের বদলে বাংলার বিভিন্ন এলাকার নিজস্ব খাবারকে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মহালয়ার ভোরেও থাকছে আলাদা আয়োজন। পিতৃতর্পণের জন্য গঙ্গার ঘাটে ভিড়ের সময় বাঙালির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার বাবুঘাট, আহিরীটোলা ঘাট, জাজেস ঘাট, নিমতলা ঘাট এবং বাজে কদমতলা ঘাটে মাইকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্প্রচার করা হতে পারে। একই সঙ্গে ঘাটগুলিতে বড় আকারের রেডিওর প্রতিকৃতি এবং বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ইডেনের মহালয়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি নিয়ে আগে জল্পনা থাকলেও সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী তাঁর সেখানে থাকার সম্ভাবনা নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় ৬,০০০ শিল্পী ও ৩,০০০ ঢাকির অংশগ্রহণের পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।
সব মিলিয়ে, মহালয়া থেকে বিজয়া—এবার কলকাতার দুর্গোৎসবের সরকারি আয়োজনের তালিকায় প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং বাংলার আঞ্চলিক খাবারের সমন্বয়ে একাধিক নতুন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0