সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ মহুয়াকে, বাইরে বিজেপির বিক্ষোভ! স্পিকারকে চিঠি, আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত
কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউস থেকে রাতে ঘর ছাড়ার নির্দেশ পাওয়ার অভিযোগ মহুয়া মৈত্রের। বাইরে বিজেপির বিক্ষোভের দাবি করে স্পিকারকে চিঠি সাংসদের, আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত।
স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ, রাতের দিকে নদিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক তাঁকে সার্কিট হাউসের ঘর ছেড়ে দিতে বলেন। একই সময়ে সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বলে দাবি করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেন মহুয়া। তাঁর দাবি, একজন সাংসদকে এভাবে রাতে আবাসন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া এবং একই সময়ে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। প্রয়োজন হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রাতের মধ্যে কেন ঘর ছাড়ার নির্দেশ?
মহুয়ার দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে পৌঁছন। সাংসদ হিসেবে অতীতেও তিনি সেখানে থেকেছেন বলে জানান। তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ঘরটি খোলা হয়েছিল এবং নিয়মমাফিক চা ও রাতের খাবারও পরিবেশন করা হয়।
এরপর রাত ৯টা ৪৭ মিনিট নাগাদ নদিয়ার এডিএম তাঁকে ফোন করে ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন বলে অভিযোগ মহুয়ার। কারণ জানতে চাইলে তাঁকে ‘উপরমহলের নির্দেশ’-এর কথা জানানো হয় বলে দাবি করেন সাংসদ। পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে একটি লিখিত নির্দেশ পাঠানো হয়।
প্রশাসনের তরফে যে কারণ দেখানো হয়েছিল বলে মহুয়া জানিয়েছেন, তা হল সার্কিট হাউসে বার্ষিক সাফাই অভিযান। তাঁর দাবি, নতুন করে কোনও ঘর বুক করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। তবে তাঁর প্রশ্ন, বুকিংয়ের সময় বা সার্কিট হাউসে পৌঁছনোর পর তাঁকে এই বিষয়ে কেন জানানো হল না?
সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির বিক্ষোভের অভিযোগ
মহুয়ার আরও অভিযোগ, রাত ১১টা নাগাদ তিনি বাইরে চিৎকার ও স্লোগানের শব্দ শুনতে পান। এরপর জানতে পারেন, সার্কিট হাউসের সামনে বিজেপির একদল কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়েছেন। তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন সাংসদ।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া। তাঁর বক্তব্য, একদিকে তাঁকে রাতে ঘর ছাড়তে বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বাইরে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। ফলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্পিকারকে চিঠি মহুয়ার
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠান কৃষ্ণনগরের সাংসদ। চিঠিতে তিনি সাংসদদের নিরাপত্তা ও তাঁদের থাকার ব্যবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, সাংসদরা সরকারি সফরে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় গেলে সার্কিট হাউস বা সরকারি অতিথিশালায় থাকার সুবিধা পেয়ে থাকেন। সেই জায়গায় রাতে হঠাৎ করে তাঁকে ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মহুয়ার বক্তব্য, ঘটনাটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় নয়, একজন মহিলা সাংসদের নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত। তাই স্পিকারের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
আদালতে যাওয়ারও ইঙ্গিত
এর আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি আবেদনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। সেই আবেদন খারিজ হওয়ার পর আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণের কথাও নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, কলকাতা হাই কোর্টও আগে পুলিশকে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল।
রাতের ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়ো ও লাইভ বার্তা প্রকাশ করেন সাংসদ। সেখানে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
লোকসভায় প্রিভিলেজ মোশনের প্রস্তুতি
মহুয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই স্পিকারকে জানানো হয়েছে। আগামী সোমবার লোকসভায় এই ঘটনা নিয়ে প্রিভিলেজ মোশন আনার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি কলকাতা হাই কোর্টে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
অন্যদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, মহুয়ার কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদেই তাঁরা সার্কিট হাউসের সামনে জমায়েত করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, মহুয়া সনাতন ধর্ম এবং দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। বিজেপির স্থানীয় এক নেতার বক্তব্য, সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই বিক্ষোভ হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, বিজেপি এবং মহুয়া মৈত্রের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। রাতের বিক্ষোভ, সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ এবং সাংসদের নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন নজর রয়েছে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের দিকে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0