জেলেই কাটবে ভোটের লড়াই! ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজত নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের। কাঁথি মহকুমা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে তাঁকে। এর মধ্যেই জামিনের জন্য কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে নতুন করে জটিলতা তৈরি হল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে। ভোটের দিন ৬ অক্টোবর হলেও তার পরের দিন, অর্থাৎ ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়িয়েছে কাঁথি মহকুমা আদালত। ফলে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত জেলেই থাকতে হতে পারে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে।
পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই জেল হেফাজতে রয়েছেন মিলন প্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার মধ্যে যে মামলাগুলিতে বর্তমানে তিনি বন্দি, সেগুলিতে জামিনের চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস। পাশাপাশি বাকি কয়েকটি মামলায় আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না বলে কলকাতা হাই কোর্টে জানিয়েছে রাজ্য।
বুধবার মিলন প্রধানের হয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁর আইনজীবী দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। যুক্তি হিসেবে আদালতে বলা হয়, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন এবং মিলন প্রধান ওই নির্বাচনের প্রার্থী। তাই নির্বাচনের সময়সূচির কথা মাথায় রেখে জামিনের আবেদন দ্রুত বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এর আগে মিলনের বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচটি মামলাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চাওয়া হয়েছিল। সেই শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, ওই পাঁচ মামলায় আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। ফলে সেই মামলাগুলিকে ঘিরে আলাদা করে সুরক্ষার প্রয়োজন নেই বলেই আদালতে রাজ্যের বক্তব্য।
মিলন প্রধানের গ্রেফতারির সূত্রপাত ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার পুরনো মামলাগুলিকে ঘিরে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের বক্তব্য।
অন্যদিকে, মিলন প্রধানের গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তাঁর দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, উপনির্বাচনের ঠিক আগে এত পুরনো মামলায় কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল। রাজ্যের বক্তব্য, পুরনো মামলায় আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নির্বাচনের সময় অন্য ক্ষেত্রেও পরোয়ানা কার্যকর করা হচ্ছে।
এখন মূল নজর কলকাতা হাই কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে। নির্বাচনের আগে মিলন প্রধান জামিন পান কি না, নাকি জেল হেফাজতেই থেকে তাঁকে নন্দীগ্রামের ভোটের লড়াই চালাতে হবে—সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0