তুমুল সংঘর্ষে ফের স্তব্ধ নেপাল! অগ্নিগর্ভ একাধিক শহরে জারি অনির্দিষ্টকালের কার্ফু! হাই অ্যালার্ট ভারতের

দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল। একাধিক শহরে অনির্দিষ্টকালের কার্ফু জারি। পরিস্থিতির জেরে ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, হাই অ্যালার্টে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি।

Aug 4, 2026 - 14:57
 0  6
তুমুল সংঘর্ষে ফের স্তব্ধ নেপাল! অগ্নিগর্ভ একাধিক শহরে জারি অনির্দিষ্টকালের কার্ফু! হাই অ্যালার্ট ভারতের

দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে নেপালের একাধিক এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করেছে প্রশাসন। বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের একাধিক ঘটনার জেরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার আবেদন জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ।

নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং বিক্ষোভের ঘটনায় বেশ কয়েকটি এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সুনসারি জেলার হরিনগর এলাকায় ওয়ার্ড চেয়ারম্যানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজধানী কাঠমান্ডুর জোড়পাটি এলাকার নতুন বস্তিতেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর মিলেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। প্রশাসনের তরফে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরেও ‘জেন জি’ আন্দোলনের জেরে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছিল নেপাল। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। নতুন সরকার গঠনের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে ফের আন্দোলন শুরু হওয়ায় নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে সরকার।

নেপালের পরিস্থিতির প্রভাব যাতে ভারতের সীমান্ত এলাকায় না পড়ে, সে কারণে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত। বিশেষ করে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গ—নেপাল সীমান্তবর্তী পাঁচ রাজ্যে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, নাকা চেকিং এবং তল্লাশি অভিযান চলছে। বৈধ নথিপত্র ছাড়া কাউকে সীমান্ত পারাপারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-সহ নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এসএসবি ও রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি চালাচ্ছে। সন্দেহজনক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভারত-নেপাল সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৭৫১ কিলোমিটার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অবাধ যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0