'৫৬ ইঞ্চি কা বান্দর, জলদি আও সাদান কে আন্দর!' সংসদের বাইরে খেলনা বানর নিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে
অমিত শাহকে নিশানা করে সংসদ চত্বরে খেলনা বাঁদর হাতে বিরোধীদের বিক্ষোভ। পুলিশি অভিযানের ঘটনায় সরকারের বিবৃতি দাবি, জবাব নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত।
বর্ষাকালীন সংসদ অধিবেশনের শেষলগ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ঘিরে বিরোধীদের বিক্ষোভ আরও তীব্র হল। বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরের বাইরে খেলনা বাঁদর হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদদের একাংশ। কংগ্রেস সাংসদ পবন খেরার নেতৃত্বে চলে এই প্রতিবাদ। অমিত শাহকে নিশানা করে বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায়, ‘৫৬ ইঞ্চি কা ছোট বান্দর, জলদি আও সাদান কে আন্দর’ স্লোগান।
বিরোধীদের অভিযোগ, যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন অভিযানের সময় পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে সরকারকে সংসদে স্পষ্ট বিবৃতি দিতে হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহির দাবি তুলেছে বিরোধী শিবির।
অমিত শাহের বক্তব্য ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি
বুধবার সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, বিরোধীরা যদি স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে আলোচনার আবেদন জানায়, তাহলে তিনি আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত আবেদন এলে সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকবে। সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত অভিযোগের জবাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে শাহের এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা দীর্ঘ বক্তৃতা বা সাধারণ আলোচনা চাইছেন না। বরং নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে সরাসরি জবাব এবং বিবৃতি দাবি করা হচ্ছে।
রাহুলের পর সৌগতেরও আক্রমণ
বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন, এই পর্যায়ে তাঁরা অমিত শাহের বক্তব্য শুনতে আগ্রহী নন। তাঁর দাবি, যে সময়ে সংসদে বিষয়টি নিয়ে সরকারের বক্তব্য প্রয়োজন ছিল, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেননি।
তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ও একই সুরে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তৃতা শোনার কোনও প্রয়োজন বিরোধীদের নেই। তাঁর দাবি, দিল্লিতে পুলিশের অভিযানের দায় শুধু পুলিশের নয়, এর জন্য সরকারেরও জবাবদিহি প্রয়োজন।
‘কে বলপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল?’
বিরোধীদের মূল প্রশ্ন, যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করার সময় পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল? সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর চাওয়া হয়েছে বলে দাবি বিরোধী সাংসদদের।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, তাঁরা কোনও ‘কল্পনাপ্রসূত’ বক্তব্য শুনতে চান না। বরং নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট জবাব চান।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামগোপাল যাদবেরও দাবি, বিরোধীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কোনও প্রশ্নোত্তর পর্বের দাবি করেনি। তাঁরা সংসদে সরকারের বিবৃতি চেয়েছেন।
‘লাপাত্তা’, ‘ভাগোড়া’ স্লোগান
বিরোধীদের একাংশ অমিত শাহকে নিশানা করে ‘লাপাত্তা’ এবং ‘ভাগোড়া’ স্লোগানও দেয়। এই ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অধিবেশন শুরুর পর থেকেই তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের চেম্বারেও থাকছেন।
তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা সংসদের কোনও কক্ষেই স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দিচ্ছে না। সেই পরিস্থিতিতে অধিবেশন কক্ষে গিয়ে বসে থাকার কোনও অর্থ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অধিবেশনের শেষ দিনে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ
বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে অমিত শাহের বক্তব্য ঘিরে আগেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল। তার মধ্যেই সংসদ চত্বরে খেলনা বাঁদর হাতে বিরোধীদের এই অভিনব বিক্ষোভ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিল।
সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আলোচনার প্রশ্নে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে অধিবেশনের শেষ দিনে এই ইস্যুতে সংসদের ভিতরে ও বাইরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0