স্যর ক্রিকে পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা ঘিরে উদ্বেগ, সীমান্তে বাড়ছে নজরদারি

স্যার ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর দাবি ঘিরে উদ্বেগ। বিশেষ বাহিনী, নৌযান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের রিপোর্টের পর পরিস্থিতির দিকে নজর ভারতের।

Aug 8, 2026 - 15:48
 0  8
স্যর ক্রিকে পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা ঘিরে উদ্বেগ, সীমান্তে বাড়ছে নজরদারি

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা স্যর ক্রিককে ঘিরে ফের উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট ও সূত্রের দাবি, গুজরাটের কচ্ছ এবং পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের মধ্যবর্তী এই জলাভূমি এলাকায় সামরিক পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে ইসলামাবাদ। বিষয়টি সামনে আসতেই পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

স্যর ক্রিক নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। কৌশলগত অবস্থানের কারণে আরব সাগরের লাগোয়া এই অঞ্চল দুই দেশের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর যে কোনও উদ্যোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

স্যর ক্রিকে কী করছে পাকিস্তান?

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, স্যর ক্রিক এলাকায় পাকিস্তান বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করেছে। জল, স্থল এবং আকাশপথে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনায় প্রশিক্ষিত নেভাল স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (SSG) কম্যান্ডোদের সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এর পাশাপাশি, অগভীর জল এবং কাদামাটির এলাকায় চলাচলের উপযোগী হোভারক্রাফট, দ্রুতগতির প্যাট্রল বোট এবং অন্যান্য নৌযান মোতায়েনের কথাও সামনে এসেছে। স্যর ক্রিকের কাছাকাছি বান্ধা ধোরা ও হারামি ধোরা এলাকায় নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। কয়েকটি নেভাল চেকপোস্ট তৈরির পাশাপাশি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও জোরদার করার খবর রয়েছে।

ড্রোন ও এয়ার ডিফেন্স নিয়েও দাবি

পাকিস্তানের এই তৎপরতার মধ্যে তুরস্ক থেকে পাওয়া ড্রোন এবং চিনা প্রযুক্তির হোভারক্রাফট ব্যবহারের দাবি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে রকেট ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ওই অঞ্চলে এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কোস্টাল ডিফেন্স বোট, মেরিন অ্যাসল্ট ক্রাফ্ট, হাই-স্পিড প্যাট্রল বোট এবং নৌবাহিনীর অন্যান্য প্ল্যাটফর্মও স্যর ক্রিক সংলগ্ন এলাকায় আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত সামরিক মোতায়েনের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে দাবিগুলিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

চিনের ভূমিকা নিয়েও জল্পনা

পাকিস্তানের সামরিক প্রস্তুতির পিছনে চিনের সহযোগিতা রয়েছে বলেও দাবি উঠেছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে স্যর ক্রিক এলাকায় চিনা প্রযুক্তি বা সরঞ্জামের ব্যবহার নিয়ে বিশেষ নজর রয়েছে ভারতের। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই চিনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। সেই কারণে আরব সাগর এবং উপকূলীয় অঞ্চলে পাকিস্তানের নৌক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি ভারতের কৌশলগত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।

আগেও কড়া বার্তা দিয়েছিল ভারত

স্যর ক্রিক নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ নতুন নয়। অতীতেও এই এলাকায় পাকিস্তানের সামরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে ভারত সতর্ক করেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অতীতে স্যর ক্রিকে পাকিস্তানের যে কোনও সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। ফলে ফের স্যর ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতার খবর সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই নজর বেড়েছে দিল্লির।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর নতুন সমীকরণ?

কিছু বিশ্লেষণে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার সঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পরিস্থিতির যোগসূত্র খোঁজা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের বর্তমান পদক্ষেপ সরাসরি কোনও প্রতিশোধমূলক পরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে এখনও নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং চিনের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নতুন আঞ্চলিক সমীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই পরিস্থিতিতে ভারতও স্যর ক্রিক এবং আরব সাগর সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সীমান্তের সামরিক গতিবিধি, নৌ-তৎপরতা এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের বিষয়গুলির উপর দিল্লি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

স্যর ক্রিক কেন গুরুত্বপূর্ণ?

স্যর ক্রিক হল প্রায় ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি জোয়ার-ভাটাপ্রবণ জলপথ, যা ভারতের গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চল এবং পাকিস্তানের সিন্ধের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সীমান্ত নির্ধারণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ এবং আরব সাগরের কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের কেন্দ্র। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, স্যর ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা সংক্রান্ত যে দাবিগুলি সামনে এসেছে, সেগুলির কতটা সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়। পরিস্থিতির উপর নয়াদিল্লির নজর রয়েছে বলেই সূত্রের দাবি।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0