আগামীকাল ৫ ঘণ্টা বন্ধ পুরীর জগন্নাথ মন্দির, ভক্তদের জন্য জারি বিশেষ নির্দেশিকা

চিতালগী অমাবস্যা উপলক্ষে ১২ আগস্ট পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে পুরীর জগন্নাথ মন্দির। দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সাধারণ দর্শন।

Aug 11, 2026 - 16:29
 0  83
আগামীকাল ৫ ঘণ্টা বন্ধ পুরীর জগন্নাথ মন্দির, ভক্তদের জন্য জারি বিশেষ নির্দেশিকা

আগামীকাল, বুধবার ১২ আগস্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে। মন্দির প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা মন্দিরের গর্ভগৃহে ভক্তদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে না। বিশেষ ধর্মীয় আচার পালনের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার শ্রাবণ কৃষ্ণ অমাবস্যা তিথিতে পালিত হবে বিশেষ ‘চিতালগী অমাবস্যা’ অনুষ্ঠান। সেই উপলক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ দর্শনের ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হবে।

দুপুর ২টো থেকে বন্ধ দর্শন

মন্দির প্রশাসনের সূচি অনুযায়ী, প্রথম ভোগমণ্ডপে দেবতাদের ভোগ নিবেদন শেষ হওয়ার পর দুপুর ২টো নাগাদ সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মন্দিরে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান চলবে।

অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ফের ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হবে। ফলে বুধবার পুরী যাওয়ার পরিকল্পনা থাকা দর্শনার্থীদের এই সময়সূচির কথা মাথায় রেখে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কী এই ‘চিতালগী অমাবস্যা’?

চিতালগী অমাবস্যা জগন্নাথদেবের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার। এই বিশেষ দিনে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে বিশেষভাবে সাজানো হয়। তিন বিগ্রহের কপালে বিশেষ সোনার অলঙ্কার পরানোর রীতি রয়েছে।

রথযাত্রা ও স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই অলঙ্কারগুলি বিগ্রহ থেকে সরিয়ে রাখা হয়। পরে চিতালগী অমাবস্যার বিশেষ নীতির মাধ্যমে নির্ধারিত আচার মেনে ফের তিন দেবতার কপালে অলঙ্কার পরানো হয়।

এই বিশেষ নীতি পালনের সময় সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়। সেই কারণেই বুধবার কয়েক ঘণ্টার জন্য মন্দিরের দর্শন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওড়িশার কৃষিজীবনের সঙ্গেও রয়েছে যোগ

চিতালগী অমাবস্যার গুরুত্ব শুধুমাত্র পুরীর মন্দিরের ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়। ওড়িশার গ্রামীণ সমাজ এবং কৃষিকাজের সঙ্গেও এই উৎসবের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

শ্রাবণ মাসের অমাবস্যায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষিভিত্তিক রীতিনীতি পালনের চল রয়েছে। এই দিন বাড়িতে বিশেষ ধরনের চালের পিঠে তৈরির রীতিও রয়েছে। পরে সেই পিঠের কিছু অংশ কৃষিজমিতে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পোকামাকড় ও ধানখেতে থাকা জলজ প্রাণীদের জন্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রথা রয়েছে।

অর্থাৎ ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি কৃষি, প্রকৃতি এবং গ্রামীণ জীবনের সঙ্গেও চিতালগী অমাবস্যার একটি গভীর সাংস্কৃতিক যোগ রয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0