‘‘বুদ্ধবাবু ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পারেননি…’, মৃত তৃণমূল নেতার কাউন্সিলর স্ত্রীকে CM-র অ্যাটেনডেন্টের চাকরি দিলেন শুভেন্দু
হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্টের চাকরি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ১০ লক্ষ টাকা সহায়তা ও দুই সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্বও নিল রাজ্য।
হালিশহরের পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে একাধিক বড় ঘোষণা করেন তিনি। মৃত তৃণমূল কর্মীর কাউন্সিলর স্ত্রীকে নিজের দফতরের অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে নিয়োগের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা এবং মৃতের দুই সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
রবিবার ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সফর ঘিরে এলাকায় বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। তবে পরিবারের কোনও সদস্য তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
এর পরের দিনই হালিশহরে পৌঁছে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে তাঁদের অভিযোগ এবং দাবিদাওয়া শোনেন মুখ্যমন্ত্রী।
তদন্তে কড়া পদক্ষেপ
মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
শুভেন্দুর বক্তব্য, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে—এই বিষয়টি নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে কীভাবে এবং কতটা শারীরিক নির্যাতনের ফলে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
স্ত্রীকে চাকরির ঘোষণা
মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী স্থানীয় কাউন্সিলর। পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই পদে মাসিক প্রায় ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট সময় কাজ করার পর গ্রুপ-ডি পদে স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ থাকে। শোকের সময় কাটিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে পরিবারকে।
দুই সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব
মৃত কর্মীর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের পড়াশোনার দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেবে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দাবি জানানো হয়েছিল। সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই তাঁদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য
মৃতের পরিবার সরাসরি আর্থিক সাহায্য দাবি না করলেও মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকার সহায়তা দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, কোনও অর্থই প্রিয়জন হারানোর ক্ষতিপূরণ হতে পারে না। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো তাঁর দায়িত্ব।
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কোনও মৃত রাজনৈতিক কর্মীর পরিবারের কাছে মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশ প্রশাসন এবং ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে নিয়ে যাওয়ার এমন নজির আগে দেখা যায়নি।
হালিশহরের এই ঘটনায় একদিকে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর তদন্ত, অন্যদিকে মৃতের পরিবারের পাশে সরকারের একাধিক সহায়তার ঘোষণা—দুই দিক থেকেই ঘটনাটি এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0