অবশেষে প্রকাশ্যে সুমিত রায়, ভবানী ভবনে হাজির অভিষেকের আপ্তসহায়ক
শালবনি জমি মামলায় সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর ও আইনি পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা।
অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শনিবার সকালে ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জমি সংক্রান্ত প্রতারণার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করেছিল সিআইডি। সেই নোটিসের পরই এদিন তদন্তকারীদের মুখোমুখি হলেন সুমিত। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে সুমিত রায়ের টালিগঞ্জের মহাবীরতলার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়। নোটিসে শনিবার ভবানী ভবনে হাজির হয়ে তদন্তকারীদের সামনে বক্তব্য জানানোর নির্দেশ ছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন সকাল ৯টা ৫৪ মিনিট নাগাদ ভবানী ভবনে পৌঁছন তিনি। তদন্তকারীরা তাঁর বয়ান রেকর্ড করবেন বলে জানা যাচ্ছে।
সুমিতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আরও দু’টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চারটি এফআইআর রয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী। নতুন মামলাগুলিতে আইনি সুরক্ষা চেয়ে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সুমিত। শুক্রবার তাঁর আইনজীবী সৌগত ভট্টাচার্য দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। তবে বিচারপতি সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। মামলাটি নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে বলে আদালতের তরফে জানানো হয়েছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দু’টি মামলায় আগাম জামিন পেয়েছিলেন সুমিত রায়।
কীভাবে উঠে আসে সুমিতের নাম?
মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তারের পরই তদন্তের সূত্রে সুমিত রায়ের নাম সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। এর পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জমি সংক্রান্ত একটি মামলাতেও সুমিতের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে। সেই মামলার তদন্তেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি।
অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি, কিন্তু মেলেনি সুমিতের খোঁজ
সুমিত রায়ের সন্ধানে প্রায় এক মাস আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও পৌঁছেছিল শালবনি থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হলেও সেখানে সুমিতের সন্ধান মেলেনি বলে জানা যায়। এরপর থেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে মেদিনীপুর আদালত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও জারি করা হয়। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে এসে সিআইডির তলবে সাড়া দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক। শনিবার ভবানী ভবনে তদন্তকারীদের সামনে তাঁর উপস্থিতি এই মামলার তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আনে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0