২৫০ কর্মীর মাইনে ৫৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা! সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল কর্মীদের মাইনের প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সওয়াল
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে কর্মীদের বেতনের প্রসঙ্গ। কপিল সিব্বলের দাবি, ২৫০ কর্মীর বেতন দিতে প্রয়োজন ৫৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা।
তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে দলের কর্মীদের বেতন এবং মাসিক পরিচালন খরচের বিষয়টি উঠে এল সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। দলের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বল দাবি করেন, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় দলের প্রায় ২৫০ জন কর্মীর বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সিব্বলের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মীদের বেতন-সহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে চলতি মাসে প্রায় ৫৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকা দলের অফিসগুলির পরিচালন খরচও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলি থেকে নির্দিষ্ট অর্থ ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
২৫০ কর্মীর বেতন আটকে?
শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী দাবি করেন, দলের মোট কর্মীসংখ্যা প্রায় ২৫০। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকার কারণে চলতি মাসে তাঁদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। বেতন ও অন্যান্য কর্মী সংক্রান্ত খরচ মিলিয়ে ৫৩ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে আদালতে জানান তিনি।
এর পাশাপাশি অফিস পরিচালনার জন্য চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং নিরাপত্তা সংস্থাকেও অর্থ দিতে হয় বলে জানানো হয়েছে। সিব্বলের দাবি, তৃণমূলের ১৭টি অফিস মিলিয়ে মাসিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ১ কোটি টাকা। নির্বাচনের সময়ে কাজ করা কর্মীদেরও কিছু পারিশ্রমিক এখনও বাকি রয়েছে বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
৩৬টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৩১টিই FD?
তৃণমূলের আইনজীবীর বক্তব্য, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টের বাইরে দলের আরও ৩৬টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে সিব্বলের বক্তব্য, ওই ৩৬টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৩১টি ফিক্সড ডিপোজিট বা FD এবং বাকি পাঁচটি সাধারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। তাঁর দাবি, FD ভাঙলে সেই অর্থও পরে ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টের আওতায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সেগুলি ব্যবহার করাও বাস্তবে সমস্যার।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে কয়েকটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে এবং তদন্তকারী সংস্থা আদালতে সমস্ত তথ্য দিচ্ছে না।
‘৬০ কোটি টাকার অভিযোগ, ৪০০ কোটি কেন বাজেয়াপ্ত?’
সিব্বল আদালতে আরও প্রশ্ন তোলেন, তদন্তকারী সংস্থার মামলায় ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’-এর পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাহলে তার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ কেন ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করে রাখা হয়েছে—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, পুরো অর্থ আটকে রাখার ফলে রাজনৈতিক দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। কর্মীদের বেতন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আদালতে দাবি করেন তিনি।
হাইকোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ
শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের আগের একটি নির্দেশের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সিব্বল। তাঁর দাবি, দলের দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য একজন প্রাক্তন হাইকোর্ট বিচারপতিকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করে নির্দিষ্ট অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তৃণমূলের আইনজীবীর অভিযোগ, অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেই নতুন করে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
এয়ারক্রাফ্ট সংস্থার অ্যাকাউন্ট নিয়েও প্রশ্ন
শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে আরও একটি বিষয় তুলে ধরা হয়। সিব্বলের দাবি, দলের কাজে ব্যবহারের জন্য একটি সংস্থা থেকে এয়ারক্রাফ্ট নেওয়া হয়েছিল। সেই সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে বলে তিনি আদালতে জানান।
কেন ওই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, তার ভিত্তি তদন্তকারী সংস্থার তরফে স্পষ্ট করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলায় তৃণমূলের পক্ষের এই সমস্ত বক্তব্যের জবাব তদন্তকারী সংস্থা কী দেয় এবং সুপ্রিম কোর্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0