সিদ্ধান্ত নিতে হবে ৩ মাসের মধ্যে! জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কমিশনকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে চলা বিরোধে নির্বাচন কমিশনকে সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সব পক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়ে এরপর তিন মাসের মধ্যে প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে চলা বিরোধে এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, সব পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় দিতে হবে। এরপর তিন মাসের মধ্যে গোটা বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে কমিশনকে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিরোধে থাকা উভয় পক্ষকে কমিশনের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে।
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন এর আগেই অন্তর্বর্তী নির্দেশে মূল দলের নাম এবং ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে দুই গোষ্ঠীকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়তে হচ্ছে।
এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করেনি। একই সঙ্গে কমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মূল বিরোধের নিষ্পত্তিতে কতটা সময় প্রয়োজন।
সোমবারের শুনানিতে সেই সময়সীমা নিয়েই স্পষ্ট নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে কোনও বিরোধ ঝুলিয়ে রাখা যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নথি জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার পর কমিশনকেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময়সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে মামলাটির জটিলতা এবং অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়। তবে আদালত বিষয়টিকে কমিশনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বদলে বিচারিকভাবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তিযোগ্য বিরোধ হিসেবেই দেখেছে।
এখন চার সপ্তাহের মধ্যে দুই পক্ষকে নিজেদের নথি ও বক্তব্য কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর শুরু হবে মূল দাবিদার কে এবং দলীয় নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের অধিকার কার—তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া। আদালতের নির্দেশের ফলে এই দীর্ঘদিনের প্রতীক-বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা তৈরি হল।
তবে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার কারণে আসন্ন নির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের প্রশ্নটি আপাতত আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নির্দেশ অনুযায়ী, বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই গোষ্ঠীই পৃথক পরিচয় ও প্রতীক ব্যবহার করবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0