রাষ্ট্রপতির সম্মতি মেলেনি, তবু পিছু হটছে না রাজ্য! ‘আইনি পথেই এগোব’, গুন্ডাদমন বিল নিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দুর

রাষ্ট্রপতির সম্মতি মেলেনি পশ্চিমবঙ্গের গুন্ডাদমন বিলে। NDPS ও PITNDPS আইনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের কারণে বিল ফেরত। আইনি পথেই এগোনোর বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

Sep 25, 2026 - 20:10
 0  9
রাষ্ট্রপতির সম্মতি মেলেনি, তবু পিছু হটছে না রাজ্য! ‘আইনি পথেই এগোব’, গুন্ডাদমন বিল নিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত ‘গুন্ডাদমন’ বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি মেলেনি। কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের পরও বিলটি নিয়ে পিছিয়ে যাওয়ার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি সংস্থান খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে তাঁর সরকার।

শুক্রবার এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্য কয়েকটি রাজ্যেও অনুরূপ আইন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আইনি সংস্থান দেখেই আমরা এগোব। আইনি পথেই কাজ হবে।” একইসঙ্গে তিনি জানান, গুন্ডাদমন সংক্রান্ত আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বিলটি ফেরত আসার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেছেন। এক্স-এ পোস্ট করে তিনি ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সঙ্গে ‘রিভার্স গিয়ার’-এর তুলনা করেন এবং দাবি করেন, কেন্দ্রের আপত্তির কারণে রাজ্যের বিল সংশোধনের জন্য ফেরত এসেছে।

অভিষেকের মন্তব্যের জবাবে শুভেন্দু বলেন, কে কী বলছেন তা নিয়ে তাঁর সরকার চিন্তিত নয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুন্ডাদমন সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।

কেন রাষ্ট্রপতির সম্মতি আটকাল?

‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬’-এর একটি ধারাকে ঘিরেই মূল আপত্তি উঠেছে। কেন্দ্রের নোট অনুযায়ী, বিলের ‘গুন্ডা’-র সংজ্ঞার মধ্যে NDPS Act, 1985-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

কেন্দ্রের বক্তব্য, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং প্রতিরোধমূলক আটক নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি পৃথক কেন্দ্রীয় আইন—PITNDPS Act, 1988—রয়েছে। ফলে একই ধরনের ক্ষেত্রে রাজ্য আইনের মাধ্যমে সমান্তরাল প্রতিরোধমূলক আটক ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কেন্দ্রের মতে, এতে দুই আইনের মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে।

এই কারণেই সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আইনি বৈপরীত্যের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে কেন্দ্র প্রস্তাবিত আইনের সংশ্লিষ্ট অংশটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এরপর সংশোধিত বিল ফের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

কী রয়েছে প্রস্তাবিত বিলে?

২০২৬ সালের জুনে বিধানসভায় পেশ হওয়া এই বিলে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ এবং ‘গুন্ডা’-র সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রশাসনকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

বিল অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তিকে অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কমিশনার অথবা অনুমোদিত পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। সেই ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছর ওই এলাকায় প্রবেশ বা ফিরে আসা থেকেও বিরত রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত এই বিল আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টও আগস্টে একটি মামলার ক্ষেত্রে জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না থাকায় ওই সময় বিলটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনটি আগাম হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর আইনটি কার্যকর হলে আবেদনকারীরা ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন বলে আদালত জানিয়েছিল।

এবার রাজ্যের সামনে কী পথ?

রাজ্য প্রশাসনের তরফে যে অবস্থান সামনে এসেছে, তাতে সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে বিলটি ফের বিধানসভায় পেশ করার সুযোগ রয়েছে। সংশোধিত বিল বিধানসভায় অনুমোদিত হলে সেটি আবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে।

ফলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি না মেলার পর আপাতত মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাতের জায়গাগুলি কীভাবে সংশোধন করে রাজ্য সরকার বিলটি এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সংশোধনের পর বিলটির পরবর্তী আইনি ও সাংবিধানিক পরিণতির দিকেই এখন নজর।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0