‘কারচুপি হলে ভোটে অংশ কেন?’ বিরোধীদের নিশানা CJP প্রতিষ্ঠাতা দীপকের, ২ অক্টোবর আন্দোলনের ডাক

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই বিরোধীদের ভোটে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।

Sep 25, 2026 - 13:46
 0  10
‘কারচুপি হলে ভোটে অংশ কেন?’ বিরোধীদের নিশানা CJP প্রতিষ্ঠাতা দীপকের, ২ অক্টোবর আন্দোলনের ডাক

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের একাংশ যখন সরব, তখন সেই দলগুলির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুললেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর বক্তব্য, কোনও নির্বাচনকে যদি বিরোধীরা কারচুপিপূর্ণ বা অবাধ নয় বলে দাবি করেন, তাহলে একই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বক্তব্যে দীপকে যুক্তি দিয়েছেন, একদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ‘ফিক্সড’ বা কারচুপির অভিযোগে প্রশ্ন করা এবং অন্যদিকে সেই ব্যবস্থার মধ্যেই ভোটে লড়াই করা—দুটি অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাকেই কার্যত গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হয়।

দীপকের বক্তব্যে উঠে এসেছে ‘ফিক্সড ম্যাচ’-এর উদাহরণও। তাঁর যুক্তি, কোনও ম্যাচে কারচুপি থাকলেও সব পরিস্থিতি একতরফা নাও হতে পারে। কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী জয় পেতে পারেন, কিছু আসনে বিরোধীরাও জিততে পারেন। একইভাবে কোনও নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ থাকলেও নির্বাচনী ফলাফলে বিরোধীদের সাফল্য আসতে পারে—তাতে গোটা ব্যবস্থাটি বাইরে থেকে স্বাভাবিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো দেখাতে পারে বলে দাবি তাঁর।

একইসঙ্গে CJP প্রতিষ্ঠাতা প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ যদি সত্যিই থাকে, তাহলে কোনও নির্দিষ্ট রাজ্য, দল বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তার প্রভাবের ভিত্তিতে বিষয়টি দেখা উচিত কি না। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ থাকলে সেটিকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও সরব হয়েছে CJP। ২৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের তরফে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার কথা জানানো হয়। সময়সীমার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে।

CJP-র পক্ষ থেকে শুধু পদত্যাগের দাবিই নয়, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করার দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সামনে থাকা নির্বাচনগুলি আপাতত স্থগিত রাখার দাবিও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দীপকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং SIR-কে ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কও সামনে এসেছে। তবে নির্বাচন নিয়ে কারচুপির যে অভিযোগগুলি বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ তুলছে, সেগুলি রাজনৈতিক অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সেগুলির সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি আলাদা।

এদিকে CJP জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বই থেকে আন্দোলন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সেই কর্মসূচি দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

ফলে একদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, অন্যদিকে নির্বাচন বয়কট না করে ভোটে অংশ নেওয়ার কৌশল—এই দুই অবস্থানের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। CJP-র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেদিকেই নজর।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0