কাজের চাপ, কর্মীর ঘাটতি! ‘আবাস যোজনা’য় সমীক্ষার মেয়াদ ১৫ দিন বাড়ালেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ
পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনায় বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষার সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানো হল। কর্মীর ঘাটতি ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনায় বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষার সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানো হল। প্রতিটি যোগ্য পরিবারের কাছে পৌঁছে সমীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই তথ্য জানান তিনি।
আগে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত আবাস যোজনার সমীক্ষা শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু একদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া, অন্যদিকে পঞ্চায়েত দফতরে কর্মীর ঘাটতির কারণে বহু এলাকায় এখনও সমীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। মন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে পঞ্চায়েত দফতরে ১১ হাজারেরও বেশি কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণেই আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, যেসব এলাকায় এখনও সমীক্ষাকর্মীরা পৌঁছতে পারেননি, সেখানে দ্রুত কর্মী পাঠিয়ে কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনও পরিবারে সমীক্ষা না হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নাম ও ঠিকানা ই-মেলের মাধ্যমে জানানো যেতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে অযোগ্যদের চিহ্নিতকরণ
বৈঠকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের নিয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের পর্যায়ে প্রায় ৩০ লক্ষ বাড়ির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে উপভোক্তাদের যোগ্যতা ফের যাচাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রায় ১৮ লক্ষ বাড়ির কাজ এখনও বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ২০ লক্ষ ২০ হাজার উপভোক্তার কাছে টাকা পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার নামকে অযোগ্য বা ভুয়ো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি মন্ত্রীর।
অযোগ্য উপভোক্তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় এক হাজার জন টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। বাকিদের কাছ থেকেও অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া চলছে।
পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিট, অনিয়মে কড়া ব্যবস্থা
আবাস যোজনা এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ঠেকাতে রাজ্যের ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিট চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। আবাস যোজনা ছাড়াও ১০০ দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, কোথাও দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
এদিনের বৈঠকে আবাস যোজনা এবং ১২৫ দিনের কাজের অগ্রগতি নিয়েও পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমীক্ষা ও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আধিকারিকদের একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0