চলছে অযোধ্যার রামমন্দিরে CEO পদে নিয়োগ! নিরামিষাশী ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েও প্রশ্ন, বাছাই ১৮ জন
অযোধ্যার রামমন্দিরে পূর্ণ সময়ের CEO নিয়োগে ৫৩০০-র বেশি আবেদন থেকে ১৮ জনকে বাছাই করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ধর্মীয় বিশ্বাস, খাদ্যাভ্যাস ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে।
অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর জন্য নিয়োগ করা হবে পূর্ণ সময়ের সিইও। এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে ১৮ জনকে বাছাই করেছে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। তাঁদের মধ্যে মঙ্গলবার ১০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। বাকি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বুধবার হওয়ার কথা।
সিইও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কেও বিভিন্ন প্রশ্ন করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। মন্দির সূত্রের দাবি, আবেদনকারীদের একটি গুগ্ল ফর্মে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য দিতে হচ্ছে।
কী কী প্রশ্নের মুখে প্রার্থীরা?
প্রার্থীরা নিরামিষ না আমিষ খাবার খান, মদ্যপান করেন কি না—এমন প্রশ্নের পাশাপাশি তাঁদের ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হচ্ছে। কারও টিকি রয়েছে কি না বা পৈতে পরেন কি না, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এর পাশাপাশি পূর্ববর্তী চাকরির অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং পরিবারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে। রামমন্দিরের বিপুল ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে প্রার্থীর দক্ষতা কতটা, সেটিও সাক্ষাৎকারে যাচাই করা হচ্ছে।
মন্দিরের ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে প্রার্থীর ধারণা এবং ভগবান রামের প্রতি তাঁর বিশ্বাসের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
২৫-৩০ মিনিট ধরে চলছে সাক্ষাৎকার
রামমন্দির চত্বরের উত্তর অংশে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে বাছাই কমিটির সদস্যরা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম পর্ব। বিরতির পর দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফের সাক্ষাৎকার চলছে। প্রতিটি প্রার্থীর সঙ্গে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট কথা বলছেন কমিটির সদস্যরা।
এই বিশেষ বাছাই কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী এবং বিজ্ঞানী ও শিরডি সাঁইবাবা ট্রাস্টের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুরেশ হাওয়ারে। ট্রাস্টের অন্তর্বর্তী সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণমোহনও সাক্ষাৎকারের সময় উপস্থিত থাকছেন।
বয়স ও যোগ্যতার ক্ষেত্রেও রয়েছে শর্ত
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিইও পদে ধর্মপ্রাণ হিন্দু প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীকে নিরামিষাশী হতে হবে এবং বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই পদের জন্য সারা দেশ থেকে ৫৩০০-রও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে ১৮ জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকেই একজনকে মন্দিরের পূর্ণ সময়ের সিইও হিসেবে নিয়োগ করা হবে।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পর সিদ্ধান্ত
সম্প্রতি রামমন্দিরের অর্থ ও অনুদান ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছিল। মন্দিরের দানবাক্স, অনুদানের অর্থ, সোনা-সহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে হিসাবের গরমিলের অভিযোগ ওঠে। এর পরেই মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পূর্ণ সময়ের সিইও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
নতুন সিইও মন্দিরের প্রশাসন, দর্শনার্থীদের পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যকলাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তদারকি করবেন। ফলে রামমন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই নিয়োগকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0