বোফর্স মামলায় ইতি, হিন্দুজাদের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

বোফর্স দুর্নীতি মামলায় হিন্দুজা ভাইদের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৫ সালের দিল্লি হাই কোর্টের রায় বহাল রেখে মামলার ইতি টানল সর্বোচ্চ আদালত।

Aug 7, 2026 - 14:51
 0  2
বোফর্স মামলায় ইতি, হিন্দুজাদের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

প্রায় চার দশক ধরে চলা বহুল আলোচিত বোফর্স দুর্নীতি মামলা নিয়ে শেষ পর্যন্ত পর্দা নামাল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি হাই কোর্টের ২০০৫ সালের রায় বহাল রেখে হিন্দুজা ভাইদের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের আবেদন খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে বোফর্স মামলাটি পুনরায় শুরু করার শেষ আইনি চেষ্টাও ব্যর্থ হল।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। আইনজীবী অজয় কে আগরওয়ালের করা আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করতেই অস্বীকার করে আদালত। ফলে ২০১৮ সালে সিবিআইয়ের করা আবেদনও কার্যত খারিজ হয়ে যায় এবং দীর্ঘদিনের এই মামলার আইনি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

কী বলেছিল দিল্লি হাই কোর্ট?

২০০৫ সালের ৩১ মে দিল্লি হাই কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে শ্রীচাঁদ, গোপীচাঁদ ও প্রকাশ হিন্দুজা-সহ সুইডিশ অস্ত্র নির্মাতা সংস্থা এবি বোফর্স-এর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দেয়।

আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত প্রমাণে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। ১৯৮৬ সালের কামান কেনার চুক্তিতে হিন্দুজা ভাইদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা বা তাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ কিংবা অবৈধ কমিশনের অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে সিবিআই।

কী ছিল বোফর্স মামলা?

১৯৮৬ সালের ১৮ মার্চ ভারতের সঙ্গে সুইডিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা এবি বোফর্স-এর ১,৪৩৭ কোটি টাকার চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় ভারত ৪০০টি ১৫৫ মিমি হাউইৎজার কামান কেনে।

এর এক বছর পর, ১৯৮৭ সালের ১৬ এপ্রিল সুইডেনের একটি রেডিও সম্প্রচারে দাবি করা হয়, এই চুক্তি পাইয়ে দিতে ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের মোটা অঙ্কের কমিশন দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় দেশের অন্যতম আলোচিত দুর্নীতি বিতর্ক।

সিবিআই তদন্ত ও রাজীব গান্ধীর নাম

১৯৯০ সালের ২২ জানুয়ারি সিবিআই বোফর্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মার্টিন আরবডো, কথিত মধ্যস্থতাকারী উইন চাড্ডা এবং হিন্দুজা ভাইদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

এই মামলার রাজনৈতিক অভিঘাত গিয়ে পড়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর উপরও। যদিও তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁকে দায়মুক্ত বলে জানায়।

কার্গিলে বোফর্সের কার্যকারিতা

বোফর্স কামানকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও, ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে এই কামানের কার্যকারিতা বিশেষভাবে প্রমাণিত হয়। দ্রুত ও নির্ভুল গোলাবর্ষণের ক্ষমতার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাফল্যে বোফর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত।

শেষ হল দীর্ঘ আইনি লড়াই

দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করায় বোফর্স মামলাকে পুনরুজ্জীবিত করার সমস্ত আইনি পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। এর মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত ও দীর্ঘতম দুর্নীতি মামলার আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটল।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0