ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণে সমর্থনের অঙ্ক, FCRA বিল নিয়ে ‘মেপে পা’ ফেলছে কেন্দ্র?
ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝেই FCRA সংশোধনী বিল নিয়ে মেপে পা ফেলছে কেন্দ্র। সংসদে বিলটি আনা হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা।
সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে এবার কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধী শিবিরে টানাপড়েনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা FCRA-র প্রস্তাবিত সংশোধনী।
সূত্রের খবর, ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য সমর্থনের হিসাব কষেই FCRA সংশোধনী নিয়ে এগোতে চাইছে কেন্দ্র। চলতি অধিবেশনে বিলটি পেশ করা হবে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আজই হতে পারে সিদ্ধান্ত
FCRA সংশোধনী বিল চলতি অধিবেশনে আনা হবে কি না, তা নিয়ে বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। লোকসভার নির্ধারিত বিজনেস তালিকায় বর্তমানে চারটি বিল আলোচনার জন্য রাখা হলেও সেই তালিকায় FCRA বিলের নাম নেই।
ফলে শেষ পর্যন্ত সরকার বিলটি সংসদে আনবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের অন্দরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
ডিলিমিটেশন নিয়ে সমর্থনের অঙ্ক
আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে বিভিন্ন দলের অবস্থানও এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্রের দাবি, সব রাজ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ হারে আসন বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে ডিলিমিটেশন বিলকে সমর্থনের পথে যেতে পারে ডিএমকে এবং শরদ পওয়ারের এনসিপি।
অন্যদিকে, FCRA সংশোধনী নিয়ে খ্রিস্টান সংগঠন ও চার্চগুলির আপত্তির পাশে দাঁড়িয়েছে ডিএমকে এবং শরদ পওয়ারের দল। তাঁদের দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধনী প্রত্যাহার করতে হবে অথবা বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা উচিত।
এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে FCRA বিল পাশ করালে ডিএমকে এবং এনসিপির সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হবে কি না, সেই বিষয়টিও কেন্দ্রকে বিবেচনা করতে হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
অমিত শাহের সঙ্গে খ্রিস্টান প্রতিনিধিদের বৈঠক
FCRA সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে কোনও সংগঠনের FCRA লাইসেন্স বাতিল বা পুনর্নবীকরণ না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিনিধিদের দাবি, এই ধরনের বিধান কার্যকর হলে অর্থের জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের কাজ ব্যাহত হতে পারে।
বিরোধীদের বৈঠকেও FCRA নিয়ে আলোচনা
এদিকে, FCRA বিল নিয়ে বিরোধী শিবিরও নিজেদের কৌশল নির্ধারণে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার সকাল ১০টায় ইন্ডিয়া জোটের সংসদীয় দলের নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে FCRA সংশোধনী বিলের সম্ভাব্য প্রস্তাব এবং সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে কীভাবে অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ডিলিমিটেশন, মহিলা সংরক্ষণ এবং FCRA—এই তিনটি ইস্যুকে ঘিরে সংসদে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। কোন বিল কখন সংসদে আসে এবং কোন দল তার পাশে দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0