সরকারি হাসপাতালেও এবার সন্ধ্যার ওপিডি! ‘ইভিনিং পে ক্লিনিক’ চালুর পথে বাংলা

সরকারি হাসপাতালে সন্ধ্যার সময় ‘ইভিনিং পে ক্লিনিক’ চালুর পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের। পাশাপাশি ট্রেনি রিজার্ভের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৬২ করার উদ্যোগ স্বাস্থ্য দফতরের।

Aug 8, 2026 - 15:31
 0  4
সরকারি হাসপাতালেও এবার সন্ধ্যার ওপিডি! ‘ইভিনিং পে ক্লিনিক’ চালুর পথে বাংলা

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করতে এবার সন্ধ্যার সময়েও ওপিডি পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। ‘রেভিনিউ শেয়ারিং’ মডেলে সরকারি হাসপাতালে ইভিনিং পে ক্লিনিক চালুর ভাবনা রয়েছে নবান্নের। এই পরিষেবা চালু হলে কর্মরত মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ রোগী—সকালের ভিড় এড়িয়ে বিকেল বা সন্ধ্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, প্রস্তাবিত সান্ধ্য পে ক্লিনিক থেকে যে রাজস্ব আসবে, তার একটি নির্দিষ্ট অংশ চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট আয়ের ৬০ শতাংশ চিকিৎসকদের, ২০ শতাংশ নার্সদের এবং ১০ শতাংশ গ্রুপ ডি কর্মীদের দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়বে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবনে আয়োজিত একটি বৈঠকে এই পরিকল্পনা নিয়ে চিকিৎসকদের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য এখনও মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন।

কেন সন্ধ্যার ওপিডির ভাবনা?

সরকারি হাসপাতালের বিনামূল্যের সকালের ওপিডিতে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক রোগীর ভিড় হয়। বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগীদের অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়। অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একাংশ ওপিডির সময় শেষ হওয়ার পর বেসরকারি চেম্বার বা নার্সিংহোমে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে চলে যান। ফলে দুপুরের পর কোনও জটিল রোগী হাসপাতালে এলে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দ্রুত পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনেই সন্ধ্যার পে ক্লিনিক চালুর পরিকল্পনা বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে সকালের পাশাপাশি বিকেল-সন্ধ্যার সময়েও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিষেবার উপর চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাড়ছে ‘ট্রেনি রিজার্ভ’-এর সংখ্যা

শুধু সন্ধ্যার ওপিডি নয়, রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি নতুন সার্কুলার জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য পরিষেবা, পশ্চিমবঙ্গ জনস্বাস্থ্য প্রশাসনিক পরিষেবা এবং পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিষেবার আওতাভুক্ত ৬৬২ জন আধিকারিককে ‘ট্রেনি রিজার্ভ’ হিসেবে রাখা যেতে পারে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এর আগে এই সংখ্যা প্রায় ৪০০-র মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে চিকিৎসক মহল। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের পক্ষ থেকেও এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনের চিকিৎসক ডা. রাজীব পাণ্ডে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন বলে সূত্রের খবর।

উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন আরও চিকিৎসক

চিকিৎসকদের মতে, ট্রেনি রিজার্ভের সংখ্যা বাড়লে উচ্চশিক্ষার সুযোগও বাড়বে। আগে নির্দিষ্ট সংখ্যার সীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কিছু চিকিৎসক এমডি বা এমএস-এর মতো উচ্চতর শিক্ষাক্রমে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ছুটি পেতেন না। এবার সেই সীমা বাড়ানোয় আরও বেশি চিকিৎসক MD, MS এবং অন্যান্য উচ্চতর চিকিৎসাশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য পরিষেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিশেষজ্ঞ পরিষেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট আসন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে। সন্ধ্যার ওপিডি চালুর পরিকল্পনা এবং ট্রেনি রিজার্ভের সংখ্যা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ কার্যকর হলে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় রোগীদের সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি আগামী দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতিও কিছুটা মেটানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0