Sheikh Hasina Delhi: বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি? দিল্লিতে হাসিনার কর্মসূচি নিয়ে জল্পনা
দিল্লির বুধবারের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। তবে কোনও সাংবাদিক বৈঠক করবেন না তিনি। অনুষ্ঠানে শুধু কৃতজ্ঞতা ও ‘ধন্যবাদ’ বার্তা জানাবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
অবশেষে দিল্লির গোপন বাসভবন ছেড়ে প্রকাশ্যে আসছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উত্তাল জুলাই আন্দোলন শেষে, অগস্টে বাংলাদেশে হাসিনা-সরকারের পতনের দু'বছর পর, ফের এক আগস্ট মাস। সূত্রের খবর, ৫ অগস্ট নয়াদিল্লির একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন আওয়ামি লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে তাঁর মিডিয়া টিমের দাবি, তিনি কোনও সাংবাদিক বৈঠক করবেন না বা রাজনৈতিক বক্তব্য রাখবেন না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ধন্যবাদ জ্ঞাপনই হবে তাঁর একমাত্র বক্তব্য। তবে, ৫ অগস্টেই এবার কি হাসিনা ঘোষণা করবেন দেশে ফেরার কথা?
দিনকয়েক আগেই মুজিব-কন্যা জানান, জেল হোক, শাস্তি হোক, নিজের দেশেই ইরবেন তিনি। কিন্তু কবে? সেই নিয়েই শুরু হয় জল্পনা। এমনকি, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে থাকে, তাহলে কি বুধেই দিনক্ষণ জানাবেন হাসিনা? ৫ আগস্ট দ্য ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়াতে বক্তৃতা দেবেন তিনি। যদিও বার্তা দেবেন ভার্চুয়ালি। সেখানে উপস্থিত থাকবেন হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, শাকিব আল হাসান-সহ একাধিক ব্যক্তি।
গণঅভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতা হারিয়েছেন মুজিব-কন্যা। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই হাসিনাকে গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে। তিনি সাজা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরবেন কিনা জল্পনার মাঝেই, নিজেই জানিয়েছিলেন, ফেরার কথা। সম্প্রতি এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে দেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন,"বাংলাদেশে ফিরলে আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যা করা হলেও অবাক হব না। তবুও আমাকে ফিরতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীরা এখন চরম দমন-পীড়নের মুখে। মৃত্যু যদি অবধারিতই হয়, তবে সেটি যেন নিজের মাতৃভূমিতেই আসে।"
এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, "বাংলাদেশে ফেরা কোনও নির্দিষ্ট দিন বা সময়ের ওপর নির্ভর করছে না। আমাদের মূল লক্ষ্য দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।"
শেখ হাসিনার কথায়, এই লক্ষ্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0