মার্কিন সেনাকে হত্যা বা ধরলে পুরস্কার! মহিলাদের জন্য দ্বিগুণ অর্থ ঘোষণা ইরানের

ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামির ঘোষণা ঘিরে চাঞ্চল্য। মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার, মহিলাদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ পুরস্কারের কথা জানানো হয়েছে।

Aug 17, 2026 - 10:48
 0  3
মার্কিন সেনাকে হত্যা বা ধরলে পুরস্কার! মহিলাদের জন্য দ্বিগুণ অর্থ ঘোষণা ইরানের

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে আরও কড়া অবস্থান নিল তেহরান। ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামির ঘোষণাকে উদ্ধৃত করে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোনও মার্কিন সেনাকে হত্যা বা জীবিত অবস্থায় আটক করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনও ইরানি মহিলা এই কাজ করলে পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে ৬০ হাজার ডলার হবে।

শুধু অর্থ পুরস্কারেই বিষয়টি থেমে থাকছে না। হাতামির বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও মার্কিন সেনাকে হত্যা করতে ব্যবহৃত অস্ত্র সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে যুদ্ধ-সংক্রান্ত একটি জাদুঘরে প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে। অস্ত্রটির মূল্য সম্পর্কেও অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছে।

কেন এমন ঘোষণা তেহরানের?

রবিবার তেহরানে বক্তব্য রাখার সময় আমির হাতামি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে। সেই আবেগ থেকেই এই ধরনের উদ্যোগের কথা ভাবা হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।

ইরানের সেনাপ্রধানের দাবি, দেশের মানুষ যুদ্ধের প্রচেষ্টায় নিজেদের মতো করে অবদান রাখতে চাইছেন। সেই প্রেক্ষাপটেই আর্থিক পুরস্কারের এই ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনও প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

মার্কিন সেনা নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি

বর্তমান সংঘাতের সময়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে এমন পুরস্কার ঘোষণাকে অত্যন্ত কড়া বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানে বড় আকারে মার্কিন স্থলবাহিনীর উপস্থিতি নেই। ফলে ঘোষণাটি মূলত রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা হিসেবেও তাৎপর্যপূর্ণ।

এর আগে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব একাধিকবার আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এবার সেই অবস্থানের সঙ্গেই যুক্ত হল মার্কিন সেনাকে লক্ষ্য করে পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি।

হরমুজ নিয়ে ফের সরব তেহরান

আমির হাতামি একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী নিয়েও কড়া অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশাধিকার থাকা উচিত নয় এবং আমেরিকাকে ওই এলাকা থেকে সরে যেতে হবে।

হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ফলে এই অঞ্চলকে ঘিরে ইরান-আমেরিকার সামরিক উত্তেজনা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের এই নতুন ঘোষণার ফলে ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0