জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে? চলতি সপ্তাহেই কি চূড়ান্ত হবে মমতা-ঋতব্রতর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
জোড়াফুল প্রতীক ও তৃণমূলের নাম নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই শিবিরের টানাপোড়েন। চলতি সপ্তাহেই কমিশনের সিদ্ধান্তের জল্পনা।
তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে? এই প্রশ্নেই এখন সরগরম বাংলার রাজনৈতিক মহল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে দুই শিবিরই। সূত্রের দাবি, স্বাধীনতা দিবসের আগেই চলতি সপ্তাহে জোড়াফুল প্রতীক এবং ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম নিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
দলের প্রতীক ও নামের দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পক্ষে নথি জমা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে দুই পক্ষের মধ্যেই চাপানউতোর তুঙ্গে।
কমিশনে জমা পড়েছে দুই শিবিরের নথি
জানা গিয়েছে, নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ হিসেবে দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির দল গঠনের প্রস্তুতি পর্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের নথি কমিশনের কাছে পেশ করেছে বলে দাবি।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও নিজেদের সঙ্গে থাকা বিধায়কদের সংখ্যা-সহ একাধিক তথ্য ও নথি জমা দিয়েছে বলে খবর। দুই পক্ষের বক্তব্য এবং জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখার পর কমিশন কোন শিবিরের দাবিকে গ্রহণযোগ্য মনে করে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
মমতা শিবিরের তরফে কমিশনকে চিঠি দিয়ে ঋতব্রতদের আর অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের হাতে।
প্রতীক হারালে বিকল্প কী?
জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এমন পরিস্থিতির জন্য বিকল্প প্রতীক নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, নতুন প্রতীক নিতে হলেও ফুলের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও প্রতীক বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এমনকি সূর্যমুখী ফুলের প্রতীক নিয়েও দলের অন্দরে আলোচনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা। তবে এ বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।
শুধু বিধায়ক সংখ্যাই কি যথেষ্ট?
ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁদের সঙ্গে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। সেই সংখ্যার ভিত্তিতে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি তুলে ধরছে বিদ্রোহী শিবির। তবে মমতা শিবিরের প্রশ্ন, শুধু বিধায়কের সংখ্যা দিয়ে কি দলের ‘আসল’ পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
সংসদে তৃণমূল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যাওয়া সাংসদদের অবস্থানও এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। বিশেষ করে যাঁরা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের অবস্থান এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব কমিশনের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে।
সাংসদদের অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা
এরই মধ্যে কয়েকজন সাংসদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও এনডিএ-র অংশ নন বলে দাবি করেছেন। ফলে তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে থাকা বিধায়কের সংখ্যা কমেনি, বরং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়তে পারে। পালটা মমতা শিবিরও নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
এই মুহূর্তে প্রতীক এবং দলের নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার নির্বাচন কমিশনের উপর। কমিশনের রায় প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত দুই শিবিরই নতুন করে বড় কোনও মন্তব্য করতে চাইছে না বলে খবর।
জোড়াফুল প্রতীক যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের হাতছাড়া হয়, তাহলে বাংলার রাজনীতিতে তার প্রভাব কতটা পড়বে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর যদি প্রতীক-সহ দলের নাম নিয়ে কোনও একটি শিবিরকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে দুই পক্ষের রাজনৈতিক সমীকরণই আমূল বদলে যেতে পারে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0