জলে দিন কাটানোর অবসান! মুর্শিদাবাদের ‘জলমানব’ ইকবালের চিকিৎসার উদ্যোগ
মুর্শিদাবাদের ১৬ বছরের ইকবাল হোসেন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের জলে থাকেন, অবশেষে চিকিৎসার সুযোগ পেলেন। খবর প্রকাশ্যে আসার পর একটি বেসরকারি সংস্থা তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের জলে দিন-রাত কাটানো মুর্শিদাবাদের ১৬ বছরের কিশোর ইকবাল হোসেন, যাকে স্থানীয়রা ‘জলমানব’ নামে ডাকছেন, অবশেষে চিকিৎসার সুযোগ পেতে চলেছে। ইকবালের অস্বাভাবিক জীবনযাপনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সংস্থার উদ্যোগে চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করেছেন।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা ইকবালের দাবি, কয়েক বছর ধরে জল থেকে উঠলেই তাঁর শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া শুরু হয়। পুকুরের জলে শরীর ডুবিয়ে রাখলেই নাকি কিছুটা স্বস্তি পান তিনি। সেই কারণেই দিনের পর দিন ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর পুকুরের জলে বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। জলে সাপ, পোকামাকড় এবং অন্যান্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি ওই কিশোর।
পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে এতদিন উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। কয়েক বছর আগেই বাবাকে হারিয়েছেন ইকবাল। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও তাঁর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে পরিবারের দাবি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, জলের মধ্যেই জীবন কাটিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেছিল কিশোরটি।
ইকবালের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে একটি বেসরকারি সংস্থার। এরপর সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষ একটি দল তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় এবং চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানায়। চিকিৎসকদের একটি দল প্রাথমিক পরীক্ষা করে জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক সমস্যার প্রকৃত কারণ জানতে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে একাধিক সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও এখনই নির্দিষ্ট কোনও রোগের কথা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা এবং রিপোর্ট হাতে আসার পরই সমস্যার আসল কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও ইকবালের ঘটনা দীর্ঘদিনের পরিচিত। প্রতিবেশী ফাতেমা বিবির দাবি, ছোটবেলা থেকেই ইকবালকে পুকুর, খাল বা জলের আশপাশে বেশি সময় কাটাতে দেখা যায়। জল থেকে উঠলে তাঁর শরীরে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়ার কথা তিনি বলতেন বলেও জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। আর্থিক সমস্যার কারণে এতদিন তাঁর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর আশা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষার পর ইকবালকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হতে পারে। রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী চিকিৎসার পথ নির্ধারণ করা হবে।
চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার পর ইকবাল নিজেও আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকরা তাঁকে দেখে গিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর কথা বলেছেন। সংবাদমাধ্যমে তাঁর সমস্যার কথা প্রকাশ্যে আসার পরই চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0