ভারতের ভূখণ্ড নিজেদের বলে দাবি নেপালের! ‘প্রমাণ’ নিয়ে প্রশ্ন, সগৌলি চুক্তির আসল নথি নিয়েই ধোঁয়াশা
লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে নেপালের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিতর্ক। সগৌলি চুক্তির মূল নথি নিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্যে নতুন করে উঠল প্রশ্ন।
লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি—ভারত-নেপাল সীমান্তের এই তিন এলাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। নেপাল এই অঞ্চলগুলিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এলেও, সেই দাবির ভিত্তি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, নেপালের বিদেশমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, ১৮১৬ সালের সগৌলি চুক্তির মূল নথি আদৌ সরকারের হাতে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
নেপালের নতুন মানচিত্র প্রকাশের পর থেকেই এই সীমান্ত বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ২০২০ সালের জুনে প্রকাশিত ওই মানচিত্রে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানিকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ভারত অবশ্য সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সগৌলি চুক্তির নথি নিয়েই প্রশ্ন
সংসদে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল জানান, সগৌলি চুক্তির মূল নথি বর্তমানে নেপাল সরকারের কাছে রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। জাতীয় আর্কাইভে এই চুক্তি সংক্রান্ত কিছু নথি রয়েছে। তবে সেগুলিই যে চুক্তির আসল কপি, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
১৮১৬ সালে ইঙ্গ-নেপাল যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নেপালের মধ্যে সগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সীমারেখা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীকালে কালী নদীকে ভারত-নেপাল সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
কোথায় মূল বিরোধ?
মূল বিতর্ক কালী নদীর উৎস নিয়ে। নেপালের বক্তব্য, কালী নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরায়। সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি এবং লিপুলেখকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে কাঠমান্ডু।
অন্যদিকে, ভারতের অবস্থান হল, কালী নদীর উৎস লিপুলেখের নীচের দিকে। ফলে বিতর্কিত এলাকাগুলির একটি বড় অংশ ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে পড়ে।
এই ব্যাখ্যার পার্থক্য থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে টানাপোড়েন চলছে।
নতুন করে বিতর্কে নেপালের দাবি
সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের লিপুলেখ নিয়ে মন্তব্যের পর বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে চিন ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এর পরেই ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়।
এখন সগৌলি চুক্তির মূল নথি নিয়েই নেপাল সরকারের অনিশ্চয়তার কথা সামনে আসায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। তবে নথি না থাকার বিষয়টি একাই নেপালের ভূখণ্ডগত দাবিকে খারিজ করে দেয় না; সীমান্ত বিরোধের আইনি ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনও ভিন্ন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0