‘আবেগ আহত হলে পার্টি চিন্তাভাবনা করবে’, নেতাজি ইস্যুতে কড়া বার্তা শমীকের
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে অনন্ত মহারাজকে বার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। ‘আবেগে আঘাত লাগলে পার্টি ভাবনাচিন্তা করবে’।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা অব্যাহত। বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এবার বিষয়টি নিয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এক ভিডিও বার্তায় শমীক ভট্টাচার্য জানান, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দেশের জাতীয়তাবাদী মানুষের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু নেতাজির ঐতিহাসিক ভূমিকা ও ব্যক্তিত্বকে কোনওভাবেই খাটো করে দেখা উচিত নয়।
‘নেতাজি নেতাদের নেতা’
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, জাতীয়তাবাদী মানুষের হৃদয়ে নেতাজির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নেতাজি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ‘নেতাদের নেতা’ হিসেবে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
স্বাধীনতা সংগ্রাম, দেশভাগ এবং বন্দে মাতরমের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। শমীকের দাবি, নেতাজি কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে সংগঠন থেকে দূরে সরে না গেলে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস হয়তো অন্যরকম হতে পারত।
তিনি আরও বলেন, নেতাজি দেশভাগের বিরোধিতা করেছিলেন এবং ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে ছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক অবস্থানকে বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বার্তা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
সম্প্রতি রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্র রায় তথা অনন্ত মহারাজ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।
অনন্ত মহারাজ অবশ্য নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দাবি করেন, তিনি কোনও মনগড়া তথ্য দেননি। বিভিন্ন বই ও নথিতে যা রয়েছে, সেটিই তিনি বলেছেন বলে দাবি করেন। এমনকি বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েও নিজের বক্তব্যে অনড় ছিলেন তিনি।
তবে শুক্রবার সকালে নিজের বক্তব্য নিয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দুঃখপ্রকাশ করেন অনন্ত মহারাজ। এর আগে তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত?
অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে দল আরও কোনও পদক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নেতাজিকে নিয়ে মানুষের আবেগে আঘাত লাগলে দল বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করবে। ফলে অনন্ত মহারাজের ভবিষ্যৎ দলীয় অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেননি, তাঁর বক্তব্যে দল যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। এখন দেখার, অনন্ত মহারাজের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনার পর বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর বিরুদ্ধে কোনও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয় কি না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0