বিকল্প নয়, বরং ‘হেল্পিং হ্যান্ড’! পুজোয় সল্টলেকের রেস্তরাঁয় চমক, নাচ-বক্সিংয়ে দক্ষ হিউম্যানয়েড রোবট

দুর্গাপুজোর মরসুমে কলকাতার সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একটি রেস্তরাঁয় দেখা মিলতে চলেছে অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবটের। চিন থেকে আনা এই প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের রোবটটি কথোপকথনের পাশাপাশি নাচ, ফুটবল, বক্সিং এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতে সক্ষম। ভবিষ্যতে বাংলা ভাষায় কথোপকথন এবং মানুষের দৈনন্দিন কাজে সহায়তার জন্য আরও উন্নত রোবট আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

Oct 6, 2026 - 09:27
 0  1
বিকল্প নয়, বরং ‘হেল্পিং হ্যান্ড’! পুজোয় সল্টলেকের রেস্তরাঁয় চমক, নাচ-বক্সিংয়ে দক্ষ হিউম্যানয়েড রোবট

সিনেমার পর্দা কিংবা প্রযুক্তি প্রদর্শনীর গণ্ডি পেরিয়ে এবার কলকাতার রেস্তরাঁয় আরও কাছ থেকে হিউম্যানয়েড রোবট দেখার সুযোগ পেতে চলেছেন শহরবাসী। দুর্গাপুজোর মরসুমকে সামনে রেখে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের একটি রেস্তরাঁয় অত্যাধুনিক মানবসদৃশ রোবটকে সাধারণ মানুষের সামনে আনার প্রস্তুতি চলছে।

রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের দাবি, চিন থেকে আনা হয়েছে এই রোবটটি। এর দাম এক কোটি টাকারও বেশি। প্রায় চার ফুট উচ্চতার রোবটটির ওজন আনুমানিক ৩৫ কেজি। মূল কাঠামো ধাতব হলেও মাথা এবং বিভিন্ন জয়েন্টের অংশে কার্বন ফাইবার ব্যবহার করা হয়েছে। এর ভিতরে রয়েছে একাধিক মোটর ও গিয়ার, যার সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

রোবটটিকে শুধুমাত্র আগে থেকে নির্ধারিত কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। মোবাইলের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রোগ্রামিং করে নতুন কিছু শেখানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষ ‘টিচিং মোড’-এর সাহায্যে নতুন নাচের স্টেপ, অঙ্গভঙ্গি কিংবা নির্দিষ্ট কিছু চলাফেরা শেখানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

প্রায় তিন মাস ধরে রোবটটির প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিবিদদের পাশাপাশি টিসিএসের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাও নেওয়া হয়েছে বলে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের দাবি।

কথোপকথনের ক্ষেত্রেও রয়েছে রোবটটির বিশেষ ক্ষমতা। প্রাথমিকভাবে ইংরেজিতে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে এটি। চিনা ভাষাতেও যোগাযোগের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এখনও বাংলায় কথোপকথনের ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। ভবিষ্যতে রোবটটিকে বাংলা ভাষাতেও কথা বলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

বিনোদনের দিক থেকেও রোবটটিকে বেশ কিছু দক্ষতা শেখানো হয়েছে। বক্সিং, ফুটবল খেলা, বিভিন্ন ধরনের নাচ, হাত মেলানো এবং নির্দিষ্ট অঙ্গভঙ্গি করার মতো কাজ করতে পারে এটি। কথোপকথনের সময় সামনে থাকা ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সল্টলেকের ওই রেস্তরাঁয় এর আগেও খাবার পরিবেশনের কাজে রোবট ব্যবহার করা হয়েছিল। এবার সেই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে সক্ষম হিউম্যানয়েড রোবট। ফলে পুজোর সময়ে সেখানে খাবারের পাশাপাশি রোবোটিক্সের অভিজ্ঞতাও নিতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এই উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। বরং প্রযুক্তিকে মানুষের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনাই তুলে ধরতে চান তাঁরা।

বর্তমানে রোবটটিকে রেস্তরাঁর উপরের টার্ফ এলাকায় রাখা হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেটিকে সাধারণ মানুষের সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্গাপুজোর কথা মাথায় রেখে রোবটটির পোশাকেও থাকছে বাঙালি ছোঁয়া। পাঞ্জাবি-পায়জামা পরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নাচ ও বক্সিংয়ের মতো কার্যকলাপের ক্ষেত্রে চলাফেরার সুবিধার জন্য পায়জামাকেই উপযুক্ত বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

শুধু এই রোবটেই থেমে থাকছে না পরিকল্পনা। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার আরও একটি উন্নত হিউম্যানয়েড রোবট আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। সেই রোবটকে মানুষের দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করার উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। হাতের আঙুলের সূক্ষ্ম নড়াচড়া কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন জিনিস ধরতে পারা, বোতল খোলা কিংবা রান্নার কাজে সহযোগিতা করার মতো দক্ষতা তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।

পুজোর আগেই নতুন রোবটটি আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। ফলে কলকাতায় রোবট-ভিত্তিক পরিষেবা ও বিনোদনের পরিসর আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাংলায় রেস্তরাঁয় রোবটের ব্যবহার অবশ্য একেবারে নতুন নয়। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের একটি রেস্তরাঁয় ‘অনন্যা’ নামে একটি রোবট খাবার পরিবেশন করে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। এবার সল্টলেকের হিউম্যানয়েড রোবটের আগমন প্রযুক্তি ও রেস্তরাঁ-সংস্কৃতির এই নতুন সংযোগকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চলেছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0