শৌচাগারে নার্সের দেহ, পাশে মিলল ভায়াল! NRS-এ রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য, পৃথক তদন্তের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

NRS হাসপাতালে ডিউটির মধ্যে শৌচাগার থেকে ৩০ বছর বয়সি নার্সের দেহ উদ্ধার। পাশে ভায়াল মেলায় রহস্য আরও ঘনীভূত। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন।

Aug 13, 2026 - 16:42
 0  20
শৌচাগারে নার্সের দেহ, পাশে মিলল ভায়াল! NRS-এ রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য, পৃথক তদন্তের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার হল। বুধবার রাতে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের HDU-র শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয় ৩০ বছর বয়সি ওই নার্সের অচেতন দেহ। দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা। পাশাপাশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যেই ঘটনার পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

ডিউটির মধ্যেই নিখোঁজ নার্স

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা NRS থেকেই নার্সিং প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করে সেখানেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন তিনি।

বুধবার রাত ৮টা থেকে স্ত্রীরোগ বিভাগের HDU-তে তাঁর ডিউটি ছিল। রাত ৯টার দিকে এক রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার পর তিনি শৌচাগারে যান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এক জুনিয়র চিকিৎসক রোগীর ডেথ সার্টিফিকেট সংক্রান্ত কাজের সময় ওই নার্সের খোঁজ করেন। তখনই বিষয়টি সহকর্মীদের নজরে আসে। শৌচাগারের দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে দরজা ভেঙে ভিতর থেকে নার্সের দেহ উদ্ধার করা হয়।

দেহের পাশে ভায়াল, বাড়ছে রহস্য

তদন্তকারীদের নজরে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সূত্রের খবর, নার্সের দেহের পাশে অপারেশনের সময় অচেতন করার কাজে ব্যবহৃত একটি ওষুধের ভায়াল পাওয়া গিয়েছে। ওই ওষুধ কী ভাবে সেখানে এল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মৃতার শরীরে ওই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তদন্তকারীরা। আপাতত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি পুলিশ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতালে গিয়ে তদন্তের নির্দেশ

ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি হাসপাতালের আধিকারিক এবং মৃতার সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, অনুমানের ভিত্তিতে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বা অন্য কোনও কারণ বলে চিহ্নিত করা যাবে না। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব।

মৃতার স্বামীর অনুরোধে ময়নাতদন্ত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের তত্ত্বাবধানে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট

কলকাতা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকেও একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে NRS-এর ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান, প্রিন্সিপাল, MSVP, নার্সিং সুপার এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিভাগের আধিকারিকদের রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের এই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

CCTV ও কল লিস্ট খতিয়ে দেখছে পুলিশ

নার্সের মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে হাসপাতালের CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার রাতে ডিউটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে শৌচাগারে যাওয়ার সময় পর্যন্ত তাঁর গতিবিধি জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

পাশাপাশি তাঁর মোবাইলের কল লিস্ট, হাসপাতালের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনে কোনও সমস্যা ছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতার স্বামীর সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্তকারীরা।

ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। আপাতত রহস্য কাটেনি NRS হাসপাতালের এই নার্সের মৃত্যু ঘিরে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0