ছাত্রদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা মোদী সরকারের! ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’, ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে যাবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা

ছাত্র-যুবদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা কেন্দ্রের। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ুয়াদের সমস্যা ও মতামত শুনবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।

Aug 20, 2026 - 10:54
 0  3
ছাত্রদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা মোদী সরকারের! ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’, ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে যাবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা

ছাত্র-যুবদের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে এ বার নতুন উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের। চালু করতে চলছে ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে এক এক দিনে এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পাঠাবে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সেখানে ছাত্র-যুবদের কথা শুনবেন তাঁরা। তরুণদের সমস্যা, উদ্বেগ এবং বিভিন্ন বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করবেন মন্ত্রীরা।

দিল্লির যন্তর মন্তরে তরুণদের বিক্ষোভ দৃশ্যত নাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। আন্দোলনের চাপে এই প্রথম বার মোদী সরকারের কোনও মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এ অবস্থায় সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মসূচিতে তরুণদের মন ছোঁয়ার চেষ্টা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কখনও ইনস্টাগ্রাম রিলে, কখনও প্রকাশ্য সভায়। এমনকি লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও প্রাধান্য পেয়েছে দেশের যুবশক্তি।

এ বার তরুণদের আরও কাছাকাছি পৌঁছোতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ঘুরবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। বুধবার মোদীর নেতৃত্বে বৈঠকে বসেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। পিটিআই সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই নতুন কর্মসূচিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় এক এক জন মন্ত্রী এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। তাঁরা পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলবেন। বিভিন্ন বিষয়ে পড়ুয়াদের মতামত শুনবেন। একই সঙ্গে ছাত্র-যুবদের জন্য কেন্দ্রের কী কী প্রকল্প রয়েছে, তা-ও তুলে ধরবেন তরুণদের কাছে।

কোন মন্ত্রী কবে কোথায় যাবেন, তা স্থির করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়কে। তাঁরাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করবেন।

ঘটনাচক্রে, যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পরে ছাত্র-যুবদের কাছাকাছি পৌঁছোনোর চেষ্টায় আরও গতি আনছে বিরোধী শিবিরও। দেশের ৮০০টি ছোট ও মাঝারি শহরে রাহুল গাঁধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কংগ্রেস। এ অবস্থায় কেন্দ্রের ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচির পরিকল্পনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বস্তুত, দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্রবিক্ষোভ শুধু শাসক শিবিরকে নয়, অস্বস্তিতে ফেলেছে বিরোধী দলগুলিকেও। বিশেষ করে কংগ্রেসকে। একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে যে ভাবে যন্তর মন্তরে ভিড় করেছিলেন ছাত্র-যুবরা, তাতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি আদৌ তরুণদের মন স্পর্শ করতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে দলের অন্দরেই। যন্তর মন্তরে জমায়েত শুরুর আগেই রাজস্থানের কোটায় ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ শুরু করেছিলেন রাহুল। তবে সিজেপি ছাত্র-যুবাদের মধ্যে যতটা সাড়া ফেলতে পেরেছে, ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ ততটা পারেনি বলেই মনে করেন শশী তারুর। রাহুলের ওই কর্মসূচি কেন তরুণদের মধ্যে ছাপ ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

এই সমালোচনার মাঝেই ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস। আরও বেশি শহরে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শহরগুলিতেও ছাত্র-সম্মেলন করবেন রাহুল। সূত্রের খবর, বুধবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবার কেন্দ্রও ছাত্রদের মন জিততে নতুন কর্মসূচি চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে। ছাত্র-যুবদের ভরসা অর্জনে শাসক-বিরোধীর এই লড়াইয়ে আগামী দিনে কোন পক্ষ লাভবান হয়, সে দিকে নজর থাকবে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0