ডিম-চড়-লাথি! হেলমেট পরেও পেলেন না রেহাই, নির্মল ঘোষকে ঘিরে থানার সামনে উত্তেজনা!
আরজি কর মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় খড়দহ থানার সামনে উত্তেজনা। ডিম ছোড়ার পাশাপাশি মারধরের অভিযোগ, গ্রেফতার সঞ্জীবও।
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় ধৃত পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে শুক্রবার সকালে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়। থানা থেকে আদালতে নেওয়ার পথে ডিম ছোড়া হল নির্মলকে নিশানা করে। সেই ডিমের হাত থেকে বাঁচতে হেলমেটও পরলেন বর্ষীয়ান নেতা। কিন্তু রেহাই পেলেন না। থানার দরজা থেকে পুলিশের প্রিজ়ন ভ্যান পর্যন্ত হেঁটে যেতে যেতে তাঁকে খেতে হল কিল, চড়, এমনকি লাথিও!
নির্মলকে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ধৃত আর এক অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে নিশানা করেও ডিম ছোড়া হয়। থানার সামনে দাঁড়িয়ে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। অনেকে জুতোর মালা নিয়ে গিয়েছিলেন। বাজানো হচ্ছিল ডিজে।
আরজি করে নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবার নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মল, সঞ্জীবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এক অভিযুক্ত সোমনাথ দে-কে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার নির্মলদের যখন আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, খড়দহ থানায় হাজির ছিলেন নির্যাতিতার বাবা। তিনি সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে চাননি। তবে মুখে লেগে ছিল হাসি। নির্মলদের গ্রেফতারিতে যে তিনি খুশি, বুঝিয়ে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, এই মামলায় তিনি গোপন জবানবন্দি দিতে পারেন। তাঁকে আলাদা করে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হতে পারে।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি করের সেমিনার হল থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। অভিযোগ, পরিবারের অনুমতি ছাড়াই তড়িঘড়ি সেই দেহ সৎকার করে দেওয়া হয়। সে সময় বিধায়ক ছিলেন নির্মল। তাঁর বিরুদ্ধে দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নির্যাতিতার বাবা তিন জনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের মধ্যে নির্মল ছাড়াও ছিলেন প্রতিবেশী সঞ্জীব এবং তৃণমূলের পুরপ্রতিনিধি সোমনাথ। বৃহস্পতিবার রাতে সঞ্জীবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমনাথের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0