‘আরজি করের মতো ঘটনা ঠেকাতে গীতা পড়াতে হবে’, আদ্যাপীঠে পুজো দিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বেলঘরিয়ার আদ্যাপীঠে পুজো দিয়ে আধ্যাত্মিক জাগরণের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরজি করের মতো ঘটনা ঠেকাতে গীতাপাঠের উপর জোর তাঁর।

Aug 12, 2026 - 15:08
 0  2
‘আরজি করের মতো ঘটনা ঠেকাতে গীতা পড়াতে হবে’, আদ্যাপীঠে পুজো দিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

আরজি করের মতো ঘটনা থেকে সমাজকে দূরে রাখতে আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রসারের উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বেলঘরিয়ার আদ্যাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চেতনা বাড়াতে গীতাপাঠের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, গীতার শিক্ষা মানুষের মনে আত্মসংযম ও নৈতিকতার বোধ তৈরি করতে পারে।

বুধবার বেলা ১১টার কিছু আগে আদ্যাপীঠে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে স্বাগত জানান অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। আবাসিক ও পড়ুয়ারাও উপস্থিত ছিলেন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে। মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী।

মূল ফটক ও অ্যাম্বুল্যান্সের উদ্বোধন

আদ্যাপীঠ মন্দিরের নতুন মূল ফটকের উদ্বোধন করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি আশ্রমের তরফে দেওয়া একটি অ্যাম্বুল্যান্সেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় তাঁর হাতে।

এরপর আদ্যাপীঠের গোশালায় গিয়ে গরুর সেবা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে মন্দিরে গিয়ে আদ্যা মায়ের পুজো ও আরতি করেন।

‘আধ্যাত্মিক জাগরণ প্রয়োজন’

পুজো শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পাশাপাশি বাংলাকে আধ্যাত্মিক ভাবেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

শুভেন্দু বলেন, সনাতন প্রতিষ্ঠানগুলির মূল ভাবনার মধ্যে মানুষের সেবা রয়েছে। আধ্যাত্মিক চেতনা বাড়াতে সরকারি সহযোগিতার কথাও জানান তিনি।

আরজি কর প্রসঙ্গে গীতাপাঠের বার্তা

বক্তব্যে আরজি কর-কাণ্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মানুষের নৈতিক শিক্ষা ও আত্মসংযম বাড়ানো গেলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমানো সম্ভব। সেই কারণেই মানুষকে গীতা পড়ানোর উপর জোর দেন তিনি।

তাঁর মতে, ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সৎ চিন্তা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের বোধ জাগ্রত করা প্রয়োজন। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়ার বদলে সমাজে নৈতিক শিক্ষার প্রসারের উপরই জোর দেন তিনি।

‘গেরুয়া রাজনৈতিক রং নয়’

আদ্যাপীঠে দাঁড়িয়ে গেরুয়া রঙের তাৎপর্য নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া কোনও রাজনৈতিক প্রতীক নয়; বরং ত্যাগ, সংযম ও সাধনার সঙ্গে এই রঙের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

এদিন অযোধ্যার রামমন্দির ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে মানুষের নতুন করে সংযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আদ্যাপীঠে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে মূলত আধ্যাত্মিক জাগরণ, নৈতিক শিক্ষা এবং সনাতনী সংস্কৃতির প্রসঙ্গই সামনে এসেছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0