‘আমাদের সরকার মোবাইল দেবে না’, পড়ুয়াদের ফোন ব্যবহারে উদ্বেগপ্রকাশ শুভেন্দুর! ট্যাব নিয়ে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর
স্কুলপড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের তিনি বিরোধী। মোবাইলের পরিবর্তে শুধুমাত্র পড়াশোনার কাজে ব্যবহারযোগ্য বিশেষ ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে ‘সারথি’ প্রকল্পে সাইকেলের গুণমান ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্কুলপড়ুয়াদের হাতে মোবাইল ফোন দেওয়ার বিষয়ে ফের নিজের আপত্তির কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সারথি’ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, স্কুলে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, শিক্ষাঙ্গনে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা করছেন। পড়াশোনার পরিবর্তে মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার যাতে শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব না ফেলে, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর আগেও শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দিয়েছিলেন শুভেন্দু।
মোবাইলের বদলে ট্যাব?
মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে পড়ুয়াদের জন্য বিকল্প ডিভাইসের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। তাঁর কথায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শিক্ষার কাজে ব্যবহারযোগ্য ট্যাব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকার ভাবছে। অর্থাৎ, সাধারণ মোবাইল ফোনের পরিবর্তে শুধুমাত্র পড়াশোনার প্রয়োজন মেটাতে পারে—এমন ডিভাইস ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত প্রকল্প বা নিশ্চিতভাবে ট্যাব বিতরণের ঘোষণা হিসেবে ধরা যায় না। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিষয়টি বর্তমানে সরকারের ভাবনাচিন্তার পর্যায়েই রয়েছে।
এর আগে ট্যাব কেনার জন্য পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থানও বদলেছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তির পর ওই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল।
‘সারথি’ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
একই অনুষ্ঠানে স্কুলপড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার ‘সারথি’ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত জানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরনো প্রকল্পের নাম ও লোগো পরিবর্তনের পাশাপাশি সাইকেলের গুণগত মান উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
সাইকেলের টায়ার, আলো এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। খারাপ রাস্তা বা বিভিন্ন ধরনের পথে যাতে পড়ুয়ারা তুলনামূলক নিরাপদে সাইকেল ব্যবহার করতে পারে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নকশা ও মান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
সরকারের বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রকল্পের নাম বদল নয়, বাস্তবে পড়ুয়াদের ব্যবহারের সুবিধা এবং নিরাপত্তা বাড়ানোই ‘সারথি’র অন্যতম লক্ষ্য। সাইকেলের গুণমান যাচাইয়ের জন্য একাধিক স্তরের পরীক্ষার ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে নতুন ভাবনা
শুভেন্দুর বক্তব্যে স্কুলশিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মোবাইল নিয়ন্ত্রণ—দুই বিষয়ই পাশাপাশি উঠে এসেছে। একদিকে পড়ুয়াদের হাতে অবাধে মোবাইল দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফলে আগামী দিনে স্কুলশিক্ষায় ট্যাব বা নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক ডিভাইস ব্যবহারের কোনও নতুন মডেল রাজ্য সরকার আনে কি না, সে দিকেই এখন নজর থাকবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার—দুটি বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে রাজ্য সরকার।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0