উৎসবের মরশুমের আগেই মহার্ঘ্য চিনি! কলকাতায় সপ্তাহে কেজিতে ১২ টাকা বাড়ল, বাড়তে পারে মিষ্টির দাম
উৎসবের মরশুমের আগে কলকাতায় চিনির দাম কেজিতে ১২ টাকার বেশি বেড়েছে। তিন মাসে বৃদ্ধি ২০ টাকার বেশি। দাম নিয়ন্ত্রণে ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানি ও মজুতের সীমা কড়া করল কেন্দ্র।
উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই চিনির বাজারে বড় ধাক্কা। কলকাতায় গত এক সপ্তাহে খুচরো বাজারে চিনির দাম কেজিতে ১২ টাকারও বেশি বেড়েছে বলে বাজার-তথ্যে উঠে এসেছে। গত তিন মাসের হিসাবে বৃদ্ধির পরিমাণ ২০ টাকার বেশি। দেশজুড়ে চিনির দাম দ্রুত বাড়ায় ইতিমধ্যেই বাজার নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র।
চিনির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু সাধারণ ক্রেতার রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উৎসবের মরশুমে মিষ্টি, মিষ্টিজাতীয় খাবার, বেকারি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে। ফলে আগামী দিনে মিষ্টির দামেও চাপ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন হঠাৎ এত বাড়ছে চিনির দাম?
দেশের বাজারে চিনির জোগান নিয়ে উদ্বেগই বর্তমানে অন্যতম বড় কারণ। অগস্টে পাইকারি বাজারে চিনির দাম দ্রুত বেড়েছে। একই সময়ে উৎসবের আগে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সাধারণত অগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো, দশেরা ও দীপাবলির মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে চিনির ব্যবহার বাড়ে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন ও মজুতের চাপ। চলতি পরিস্থিতিতে দেশীয় বাজারে সরবরাহ বাড়াতে কেন্দ্রকে নীতিগত পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
মজুতের উপর কড়া নজর কেন্দ্রের
চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বড় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মজুতের উপর বিধিনিষেধ আরও কড়া করেছে। ২০ অগস্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী বাল্ক ক্রেতাদের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মজুত রাখতে হবে এবং ১৫ দিনের বেশি স্টক ধরে রাখার সুযোগ থাকবে না। এই ব্যবস্থা উৎসবের মরশুমে মজুতদারি রুখে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
বিদেশ থেকে চিনি আনছে কেন্দ্র
দাম নিয়ন্ত্রণে আরও বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার ১০ লক্ষ টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত ভাবে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই আমদানির সুযোগ থাকবে। প্রায় এক দশক পর এ ধরনের বড় মাপের চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
সরকারের লক্ষ্য, আমদানির মাধ্যমে দেশীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ আনা এবং দাম বৃদ্ধির গতি কমানো।
ইথানলের জন্য আখ ব্যবহারের প্রভাব কতটা?
চিনির দাম বৃদ্ধির আলোচনায় ইথানলও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারতের E20 কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আখ ও চিনি থেকে ইথানল উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে চিনির জন্য উপলব্ধ কাঁচামাল ও বাজারে সরবরাহের উপর তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধিকে শুধুমাত্র ইথানল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না—কম উৎপাদন, আবহাওয়ার প্রভাব, কম মজুত এবং উৎসবের আগে বাড়তে থাকা চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
বরং মজার বিষয় হল, বর্তমানে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক চিনি কলের কাছে ইথানলের তুলনায় চিনি উৎপাদন ও বিক্রি বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে। এর ফলে আগামী মরশুমে ইথানলের জন্য চিনি বা আখ সরবরাহের পরিমাণ কমার সম্ভাবনাও শিল্পমহলে আলোচনায় রয়েছে।
মিষ্টি থেকে খাদ্যপণ্য—কোথায় পড়বে প্রভাব?
চিনির দাম এ ভাবে ঊর্ধ্বমুখী থাকলে সবচেয়ে আগে চাপ পড়তে পারে মিষ্টির বাজারে। মিষ্টি তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণ চিনি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে বেকারি, পানীয়, বিস্কুট ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের দামেও ভবিষ্যতে প্রভাব পড়তে পারে।
উৎসবের মরশুম যত এগোবে, চাহিদা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কেন্দ্রের আমদানি ও মজুত নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত বাজারে কতটা দ্রুত প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0