তদন্তে সহযোগিতা করছেন না সুমিত? রক্ষাকবচ বহাল রেখে রাজ্যের রিপোর্ট চাইল সুপ্রিম কোর্ট

জমি-দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। তদন্তে সহযোগিতা নিয়ে রাজ্যের অভিযোগের পর মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট চাইল আদালত।

Aug 19, 2026 - 13:41
 0  8
তদন্তে সহযোগিতা করছেন না সুমিত? রক্ষাকবচ বহাল রেখে রাজ্যের রিপোর্ট চাইল সুপ্রিম কোর্ট

জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ আপাতত বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না বলেই এই সুরক্ষা বজায় থাকবে। একইসঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

রাজ্যের দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করছেন না সুমিত

আদালতে রাজ্যের হয়ে সলিসিটর জেনারেল দাবি করেন, তদন্তকারীদের সামনে হাজির হলেও সুমিত রায় তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন না। তাঁর বক্তব্য, মামলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতিমধ্যেই তদন্তে উঠে এসেছে এবং সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তুষার মেহতার দাবি, তদন্তে উঠে আসা তথ্য এখনও গোটা ঘটনার সামান্য অংশ। আরও নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতের সামনে পেশ করতেও রাজ্য প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

রাজ্যের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করেন, আদালতের তরফে তদন্তে কোনও বাধা তৈরি করা হচ্ছে না।

সংবিধানের ‘নীরব থাকার অধিকার’ নিয়ে সওয়াল

রাজ্যের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন সুমিত রায়ের আইনজীবী। তাঁর দাবি, ৮ অগস্ট থেকে সুমিত নিয়মিত তদন্তকারীদের সামনে হাজির হচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি তদন্তে উপস্থিত থাকছেন বলেও আদালতে জানানো হয়।

আইনজীবীর যুক্তি, সংবিধান একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য না হওয়ার অধিকার দেয়। ফলে তদন্তকারীদের সব প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে।

এর পর বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, সংবিধান একজন ব্যক্তির নীরব থাকার অধিকার স্বীকার করে ঠিকই, একইসঙ্গে আইন অনুযায়ী তদন্তকারী সংস্থার গ্রেফতারের ক্ষমতাও রয়েছে।

কী অভিযোগ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে?

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি ভুয়ো নথি তৈরি করে দখল এবং বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই মামলা। অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সরকারি জমি বিক্রির ব্যবস্থা করা হত এবং সেই কাজে জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সুমিত রায়ের যোগ রয়েছে। তাঁর সম্মতিতেই এই কাজ চলত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সুমিতের সন্ধান চালায়।

আদালতের নির্দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা

পুলিশের দাবি, সুমিতের একাধিক ঠিকানায় খোঁজ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এরপর তদন্তের স্বার্থে আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত পুলিশের আবেদন মেনে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

এর পর আগাম জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন সুমিত। সেই আবেদন খারিজ হওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শীর্ষ আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয়।

আগের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, তদন্তে সুমিত রায়কে সহযোগিতা করতে হবে। তদন্তকারীরা তাঁকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।

এবারের শুনানিতে সেই রক্ষাকবচই আপাতত বহাল রাখল শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে রাজ্যের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। পরবর্তী শুনানিতে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0