তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু ৬ জনের! আতঙ্কে পুণ্যার্থীরা
তারাপীঠের একটি হোটেলে ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের আশঙ্কা।
শ্রাবণের শেষ সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল তারাপীঠ। পুণ্যার্থীদের ভিড়ে থাকা একটি হোটেলে আচমকা আগুন ছড়িয়ে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ছয় জনের। মৃতদের মধ্যে হোটেলের কর্মী এবং পর্যটক—দু’পক্ষেরই থাকার খবর মিলেছে। আগুন ও ধোঁয়ার কারণে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর হোটেল মালিককে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মনে করছেন দমকলকর্মীরা। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভোররাতে আচমকা আগুন
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারাপীঠ থানার কাছেই একটি পুকুরের ধারে ওই হোটেলটি অবস্থিত। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার হওয়ায় মন্দিরে পুজো দিতে আসা বহু পুণ্যার্থী হোটেলে ছিলেন। ভোররাতে অধিকাংশ অতিথি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন হোটেলের একটি তলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি-তে আগুন দেখতে পান কর্মীরা।
আগুন দেখতে পেয়েই তাঁরা চিৎকার করে অন্যদের সতর্ক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে। হোটেলে থাকা ফাইবারজাত সামগ্রী আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল
থানা কাছেই থাকায় খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকলের একাধিক দল সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
এখনও পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আবার কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে। দুর্ঘটনার পর প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনকে হোটেল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
প্রাণে বাঁচতে ঘরে আটকে ছিলেন পর্যটক
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন হোটেলে থাকা এক পর্যটক। তাঁর দাবি, ভোর ৪টে নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শুনতে পান তাঁরা। এরপর ঘর থেকে বেরোনোর চেষ্টা করতেই আগুন দেখতে পান। পরিস্থিতি বুঝে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন তিনি।
ওই পর্যটকের দাবি, ঘরে কোনও জানলা না থাকায় বাইরে বেরোনোর পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত শৌচালয়ের উপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন তাঁরা। প্রায় ৪৫ মিনিট আটকে থাকার পর পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে।
শর্ট সার্কিটই কি আগুনের কারণ?
দমকলের প্রাথমিক অনুমান, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ঠিক কোন কারণে শর্ট সার্কিট হল, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সরঞ্জাম সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।
পাশাপাশি হোটেলটির পরিকাঠামো যথাযথ অনুমোদন পেয়েছিল কি না, অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হোটেলে অগ্নিবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। কোনও ধরনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারাপীঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পুণ্যার্থীদের থাকার জায়গায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0