‘নিঃশব্দ সন্ত্রাস’, রেজিনগরের ভোট নিয়ে অধীরের বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘এক মাঘে শীত যায় না’
রেজিনগর উপনির্বাচনে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘নিঃশব্দ সন্ত্রাস’ ও ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, পুলিশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভোটার ও কংগ্রেস এজেন্টদের সমস্যায় ফেলা হয়েছে। একই দিনে নন্দীগ্রামেও বিরোধীদের তরফে ভোট নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে।
রেজিনগর ও নন্দীগ্রর উপনির্বাচন ঘিরে মঙ্গলবার রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন রেজিনগরে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, প্রকাশ্যে বোমাবাজি বা গুলির ঘটনা না ঘটলেও ভোটকেন্দ্রগুলিতে ‘নিঃশব্দ সন্ত্রাস’ চালানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিকেলের দিকে রেজিনগরে পৌঁছন অধীর। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের ভূমিকার কারণেই ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন বুথে কংগ্রেসের এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ভোটারদের ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অধীরের বক্তব্য, রেজিনগরে ভোটের নামে কার্যত প্রহসন হয়েছে। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই ঘটনার রাজনৈতিক জবাব ভবিষ্যতে দেওয়া হবে। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর মন্তব্য, ‘এক মাঘে শীত যায় না’। তাঁর অভিযোগের জেরে উপনির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শুধু রেজিনগর নয়, নন্দীগ্রামেও ভোটগ্রহণ চলাকালীন বিরোধী দলগুলির তরফে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, কিছু এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে বিজেপির তরফে এই অভিযোগগুলি খারিজ করে ভোটপ্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু বলে দাবি করা হয়েছে।
নন্দীগ্রামে ভোট দিতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কনভয় ছেড়ে টোটোয় করে নিজের বুথে পৌঁছন তিনি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দেওয়ার পর শুভেন্দু বলেন, দিনের শেষে ভোটদানের হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হবেন বলেও নিজের রাজনৈতিক প্রত্যাশা জানান তিনি।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী ওই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পরে ভবানীপুর আসন ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। অন্যদিকে রেজিনগরে হুমায়ুন কবীর দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পর নওদা আসন ধরে রাখায় রেজিনগর আসনটি খালি হয়।
দুই কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন নজর ফলাফলের দিকে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0