‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ভুলব কী করে?’ দেশভাগের যন্ত্রণা স্মরণে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’-এর অনুষ্ঠানে গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ও নোয়াখালি হিংসার প্রসঙ্গ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেশভাগের যন্ত্রণা স্মরণে বার্তা তাঁর।

Aug 14, 2026 - 19:26
 0  3
‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ভুলব কী করে?’ দেশভাগের যন্ত্রণা স্মরণে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশভাগের ভয়াবহ স্মৃতি তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’ উপলক্ষে মৌলালি যুবকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশভাগ, দাঙ্গা এবং উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে ১৯৪৬ সালের ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও নোয়াখালির হিংসার প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

রাজ্যে নতুন সরকারের আমলে এই প্রথম ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’ পালিত হল। স্বাধীনতার ঠিক আগের দিন দেশভাগের সময় যাঁরা নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণেই এই দিনটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

‘দেশভাগের যন্ত্রণা ভুলে গেলে চলবে না’

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা দেশের কাছে গর্ব ও আনন্দের বিষয় হলেও দেশভাগের ক্ষত আজও বহু মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগের সময়কার সাম্প্রদায়িক হিংসা ও উদ্বাস্তু মানুষের দুর্দশার প্রসঙ্গ।

তিনি বলেন, দেশভাগের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, ১৯৪৬ সালের কলকাতার দাঙ্গা এবং নোয়াখালির হিংসার মতো ঘটনাগুলিকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে মনে রাখা উচিত।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশভাগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও উঠে আসে। তিনি দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের বিরোধিতার কথা বলেন এবং অখণ্ড ভারতের ধারণার কথাও তুলে ধরেন।

উত্তর কলকাতার প্রসঙ্গ কেন?

‘বিভাজন বিভীষিকা’ স্মরণ অনুষ্ঠানের জন্য মৌলালি যুবকেন্দ্রকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেশভাগের পর কলকাতায় তৈরি হওয়া অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

তাঁর বক্তব্যে তৎকালীন কলকাতার হিংসা প্রতিরোধে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও উঠে আসে। দেশভাগের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও প্রতিরোধের ইতিহাস নতুন করে জানা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এদিন বক্তব্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, শিবাজি এবং মহারানা প্রতাপের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে আরও বেশি করে জানানো দরকার।

দেশভাগের স্মৃতি ধরে রাখতে স্মারক উদ্যোগ

দেশভাগের সময় যাঁরা ঘরবাড়ি, সম্পত্তি এবং পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

শিয়ালদহ স্টেশনে দেশভাগের শিকার মানুষদের স্মরণে একটি স্মারক নির্মাণের জন্য ভূমিপুজো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। উদ্বাস্তু মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং দেশভাগের সামাজিক অভিঘাতকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

স্বাধীনতার আনন্দের সঙ্গে ইতিহাসের স্মরণ

স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’ পালনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পাশাপাশি দেশভাগের অন্ধকার অধ্যায়ও স্মরণ করা হল। অনুষ্ঠানে দেশভাগের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষদের ত্যাগ ও যন্ত্রণাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, স্বাধীনতার ইতিহাসের পাশাপাশি দেশভাগের ইতিহাসও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চায় রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই স্মরণসভা থেকে স্মারক নির্মাণ—একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0