নির্মলের গ্রেপ্তারির পর খড়দহ থানায় অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি, ‘শ্মশানে কী ঘটেছিল
অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে এবার বড়সড় মোড়। ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসার পরই থানায় পৌঁছলেন অভয়ার বাবা। শ্মশানঘাটে সেদিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। ফলে মামলার তদন্তে নতুন করে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।
জানা গিয়েছে, অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটির একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। বিশেষ করে অভয়ার মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে তদন্তের কথাও বলা হয়েছিল। এরপর অভয়ার বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ দায়েরের মাত্র দু’দিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বালেশ্বরের সিমুলিয়া এলাকার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে রাজ্য পুলিশ ওড়িশার পুলিশের সহযোগিতায় ওই হোটেলে পৌঁছয় এবং সেখান থেকেই নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওড়িশার আদালতে পেশ করার পর তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়। এরপর খড়দহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় প্রাক্তন বিধায়ককে। তাঁকে থানায় আনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাইরে ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য পুলিশকে আগে থেকেই বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার সময় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নির্মল ঘোষকে হেলমেট পরিয়ে বাইরে আনা হয়।
তবে পুলিশের সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও উত্তেজনা এড়ানো যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েকজন নির্মল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এমনকি তাঁকে চড় ও লাথি মারার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়—দু’জনকেই বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
অন্যদিকে, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর। নির্মল ঘোষের গ্রেপ্তারির পর অভয়ার বাবা-মায়ের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
এই মামলায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শ্মশানঘাটে সেদিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর। অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী তথ্য উঠে এসেছে, তদন্তকারীরা কোন কোন বিষয় খতিয়ে দেখছেন এবং গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে—তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেসব নিয়েই বাড়ছে জল্পনা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0