‘আর এপাং-ওপাং-ঝপাং নয়, বিদ্যাসাগরের বই কিনে পড়ুন’, বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে মমতাকে কটাক্ষ করে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহে গিয়ে গ্রন্থাগারে তাঁর লেখা বই রাখার উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি গ্রামটির পরিকাঠামো, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আলো ও পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

Sep 30, 2026 - 14:00
 0  4
‘আর এপাং-ওপাং-ঝপাং নয়, বিদ্যাসাগরের বই কিনে পড়ুন’, বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে মমতাকে কটাক্ষ করে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহকে ঘিরে নতুন করে উন্নয়ন ও সংরক্ষণের পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিদ্যাসাগরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গ্রামটিকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বীরসিংহে দাঁড়িয়ে লাইব্রেরিতে কী ধরনের বই থাকা উচিত, তা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে বিদ্যাসাগরের লেখা ও তাঁর জীবন-চিন্তা নিয়ে বই সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে। ‘এপাং-ওপাং-ঝপাং’-এর মতো বইয়ের পরিবর্তে বিদ্যাসাগরের সাহিত্য ও ভাবনাকে পাঠকদের সামনে তুলে ধরার বার্তা দেন তিনি। রাজ্য সরকারের গ্রন্থাগার নীতিতে এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কিছু বই সরিয়ে জাতীয়তাবাদ, বিজ্ঞান এবং বাংলার মনীষীদের বই রাখার কথা জানিয়েছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ।

বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে একাধিক পরিকাঠামোগত উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামের বড় পুষ্করিণীর পাড়ের উন্নয়নে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরবাতি-সহ বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা উন্নত করার কথাও বলা হয়েছে।

শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বীরসিংহকে পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। বিদ্যাসাগরের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গ্রামে থাকা গ্রন্থাগার ও সংগ্রহশালাকে আরও উন্নত করার ভাবনা রয়েছে। বিদ্যাসাগরের জীবন, সাহিত্য ও সমাজসংস্কারের ইতিহাসকে পর্যটক ও গবেষকদের কাছে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

গবেষকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। বিদ্যাসাগরকে নিয়ে যাঁরা গবেষণা করতে চান, তাঁদের থাকার জন্য বীরসিংহে কটেজ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। পর্যটকরাও যাতে সেখানে রাত কাটিয়ে বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি ও তার ঐতিহাসিক পরিমণ্ডন ঘুরে দেখতে পারেন, সেই ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ। তাঁর স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় গ্রন্থাগারেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যবহৃত বই ও ঐতিহাসিক সংগ্রহ সংরক্ষিত রয়েছে। ব্রিটিশ লাইব্রেরির আর্কাইভেও বীরসিংহ বিদ্যাসাগর মেমোরিয়াল হল রুরাল লাইব্রেরির বই ও পাণ্ডুলিপির সংগ্রহের উল্লেখ রয়েছে।

ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় বীরসিংহে শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও পর্যটনকে একসঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার ছবি সামনে এসেছে। বিদ্যাসাগরের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গ্রামটির পরিকাঠামো উন্নয়ন হলে ঐতিহাসিক এই জায়গাটির পর্যটন গুরুত্বও বাড়তে পারে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0