নবম নয়, অষ্টম শ্রেণিতেই সাইকেল! স্কুলপড়ুয়াদের জন্য ‘সবুজসাথী’ বদলে ‘সারথি’ প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রীর
হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুলে ‘সারথি’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন নিয়মে নবম নয়, অষ্টম শ্রেণিতেই পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ১২.৫৯ লক্ষ পড়ুয়া এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। সাইকেলের গুণমান, নিরাপত্তা ও স্থানীয় উৎপাদনের উপরও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার।
পশ্চিমবঙ্গের স্কুলপড়ুয়াদের জন্য নতুন সাইকেল প্রকল্প ‘সারথি’র আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুলে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এবার থেকে পড়ুয়াদের নবম শ্রেণি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না—অষ্টম শ্রেণিতেই মিলবে ‘সারথি’র সাইকেল। প্রায় ১২.৫৯ লক্ষ পড়ুয়া এই সুবিধার আওতায় আসবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন প্রকল্পে শুধু নামের পরিবর্তন নয়, সাইকেলের নকশা ও গুণমানেও পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। আগের ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের নীল রঙের সাইকেলের পরিবর্তে ‘সারথি’র সাইকেলে গেরুয়া রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। লোগোতেও এসেছে পরিবর্তন। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাইকেলে আলো, টায়ার এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের মানের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন সাইকেলগুলির গুণমান যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রকল্পের নাম বা বাহ্যিক চেহারা বদল নয়, পড়ুয়াদের ব্যবহারের উপযোগিতা এবং নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণি থেকেই সুবিধা
‘সারথি’ প্রকল্পের অন্যতম বড় পরিবর্তন হল উপভোক্তার শ্রেণি। এতদিন ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পে সাধারণত নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা সাইকেল পেতেন। নতুন ব্যবস্থায় অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারাও এই সুবিধার আওতায় আসবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে আরও কম বয়সেই স্কুলে যাতায়াতের জন্য পড়ুয়াদের নিজস্ব সাইকেল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় উৎপাদনে জোর
অনুষ্ঠানে সাইকেল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা জানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগে সাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাইরে থেকে এনে রাজ্যে সেগুলি তৈরি করা হত। ভবিষ্যতে রাজ্যের মধ্যেই সাইকেল তৈরির পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এর ফলে স্কুলপড়ুয়াদের জন্য সাইকেল সরবরাহের পাশাপাশি রাজ্যে সাইকেল উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের পরিকাঠামো তৈরির সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।
পড়ুয়াদের সঙ্গে মিড ডে মিল
প্রকল্পের সূচনার পর মুখ্যমন্ত্রী স্কুলপড়ুয়াদের সঙ্গে বসে মধ্যাহ্নভোজ বা মিড ডে মিল খান। একই টেবিলে পড়ুয়াদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। এই পর্বটিও অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে, ‘সারথি’ প্রকল্পে শুধু নাম পরিবর্তন নয়, উপভোক্তার শ্রেণি, সাইকেলের নকশা, গুণমান এবং উৎপাদন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের কথা সামনে এসেছে। অষ্টম শ্রেণি থেকেই সাইকেল দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক স্কুলপড়ুয়া নতুন সুবিধার আওতায় আসবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0